প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬
রামপুরায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা: সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুরসহ ৫ কর্মকর্তার রায় কাল
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রাজধানীর রামপুরায় দুজনকে হত্যা এবং আরও দুজনকে গুলি করার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পাঁচ সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আগামীকাল রায় ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। গত ১৫ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ উভয়ের যুক্তি-তর্কের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল রায়ের জন্য আগামীকাল রবিবার (২৮ জুন) দিন ধার্য করেছিলেন।অভিযুক্ত অন্য চার সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা হলেন—ডিএমপির খিলগাঁও জোনের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান, সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকার। গত বছরের ৬ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল। অভিযুক্তদের মধ্যে বর্তমানে শুধু এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারই কারাগারে রয়েছেন। বাকিরা পলাতক বা জামিনে রয়েছেন।উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার চাঁনখারপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা আরেকটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানকে ইতোমধ্যেই আদালত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এই পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর অধীনে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, ষড়যন্ত্র, অপরাধে সহযোগিতা ও উস্কানি দেওয়া, অপরাধ প্রতিরোধ বা শাস্তি দিতে ব্যর্থ হওয়া এবং 'কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি' (কমান্ডিং কর্মকর্তার দায়) সহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সুনির্দিষ্ট বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে।প্রসিকিউশনের নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রামপুরায় পুলিশের অভিযান চলাকালে অত্যন্ত নৃশংস ঘটনা ঘটে। সেদিন পুলিশের গুলিতে ছয় বছর বয়সী শিশু মুসা গুরুতর আহত হয়। বুলেটটি ওই নিষ্পাপ শিশুর শরীর ভেদ করে তার দাদি মায়া ইসলামকে বিদ্ধ করে। পরবর্তীতে চিকিৎসার পর শিশু মুসা অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও দাদি মায়া ইসলাম মারা যান। একই অভিযানে পুলিশের গুলিতে মো. নাদিম নামের আরেক ব্যক্তিও নিহত হন।এ ছাড়া, সেদিনেরই আরেকটি পৃথক ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল, যা দেশ-বিদেশে তীব্র নিন্দার ঝড় তোলে। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, আমির হোসেন নামে এক তরুণ একটি নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশ ধরে ঝুলছেন এবং বাঁচার আকুতি জানাচ্ছেন। কিন্তু অত্যন্ত নির্মমভাবে খুব কাছ থেকে দুজন পুলিশ সদস্য তাকে লক্ষ্য করে পরপর গুলি ছুঁড়ছেন। এই সবকটি বর্বরোচিত অপরাধের নির্দেশদাতা ও প্রত্যক্ষ বাস্তবায়নকারী হিসেবে এই পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল