প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬
আদানি মামলা প্রত্যাহারের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করার নির্দেশ মার্কিন আদালতের
মো রাকিবুল ইসলাম, সহ-সম্পাদক ||
ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানির বিরুদ্ধে আনা ফৌজদারি অপরাধের মামলা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তের পক্ষে মার্কিন বিচার বিভাগকে (ডিওজে) উপযুক্ত যৌক্তিকতা ও ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। আদানির আইনজীবীদের পক্ষ থেকে মামলাটি অবিলম্বে খারিজ করার অনুরোধ জানানো হলেও, এখনই তাতে সাড়া না দিয়ে উল্টো সরকারি কৌঁসুলিদের (প্রসিকিউটর) এই নির্দেশ দেন নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনের ডিস্ট্রিক্ট বিচারক নিকোলাস গারাউফিস।গত শুক্রবার (২৬ জুন) দেওয়া এক আদেশে বিচারক নিকোলাস গারাউফিস স্পষ্ট জানিয়েছেন, গত ১৮ মে মার্কিন ফেডারেল প্রসিকিউটররা আদানিকে সিকিউরিটিজ জালিয়াতি ও ঘুষ কেলেঙ্কারির মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার যে সংক্ষিপ্ত ঘোষণা দিয়েছিলেন, তা আদালতের কাছে যথেষ্ট এবং সন্তোষজনক মনে হয়নি। আগামী ১৩ জুলাইয়ের মধ্যে বিচার বিভাগকে এই মামলা প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কারণ ও বিস্তারিত তথ্য জমা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন আদালত।বিচারক গারাউফিস তাঁর আদেশে লিখেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া সংক্ষিপ্ত এবং চটজলদি বক্তব্যটি আদালতকে কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ভিত্তি দেয় না। এমনকি সরকারের এই মামলা প্রত্যাহারের অনুরোধের পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করার সুযোগও আদালতকে দেওয়া হয়নি।উল্লেখ্য, ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদের শেষের দিকে অর্থাৎ ২০২৪ সালে গৌতম আদানির বিরুদ্ধে এই হাই-প্রোফাইল জালিয়াতি ও ঘুষের মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। তবে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউজে আসার পর এটি মার্কিন বিচার বিভাগ কর্তৃক কোনো বড় করপোরেট অপরাধের মামলা প্রত্যাহারের সর্বশেষ উদাহরণ। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রসিকিউটররা যদি কোনো মামলা চালাতে না চান, তবে মার্কিন বিচারকদের পক্ষে তাদের জোর করার সুযোগ কম। তবে বিচারক গারাউফিস চূড়ান্ত খারিজের আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত আদানির বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বহাল থাকবে।গৌতম আদানির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান 'আদানি গ্রুপ' শুরু থেকেই এই মামলায় কোনো ধরনের অন্যায় বা জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এমনকি আদানি নিজে কখনোই এই মামলার শুনানিতে অংশ নিতে মার্কিন আদালতে হাজির হননি। আদানির প্রধান আইনজীবী রবার্ট জিউফ্রা আদালতকে দেওয়া এক চিঠিতে যুক্তি দেখিয়েছেন, এই মামলাটি মার্কিন আইনি এক্তিয়ারের বাইরে এবং ভারতের মাটিতে ঘটে যাওয়া কথিত ঘুষের ঘটনার সত্যতা প্রমাণ করার মতো কোনো উপাদান মার্কিন প্রসিকিউটরদের কাছে নেই।প্রতিরক্ষা পক্ষের দাবি, গত কয়েক মাসে আদানির আইনি দল মার্কিন বিচার বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে এবং মামলার আইনি ও তথ্যগত দুর্বলতা প্রমাণ করতে প্রায় ৫০০ পৃষ্ঠার নথিপত্র জমা দিয়েছে। মূলত এই দুর্বলতাগুলো অনুধাবন করেই মার্কিন বিচার বিভাগ তাদের নিজস্ব ক্ষমতাবলে (প্রসিকিউটোরিয়াল ডিসক্রিপশন) এই ফৌজদারি অভিযোগের পেছনে আর কোনো রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও সময় ব্যয় না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।২০২৪ সালে দায়ের করা এই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, আদানি গ্রুপ যেন ভারতে একটি বিশাল সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তোলার অনুমোদন পায়, সে জন্য গৌতম আদানি ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তাদের বড় অঙ্কের ঘুষ দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহের সময় বিষয়টি গোপন রেখে কোম্পানির দুর্নীতিবিরোধী নীতি নিয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছিলেন।ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) আদানির বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলাও করেছিল। তবে এসইসি-এর সঙ্গে একটি আর্থিক সমঝোতার মাধ্যমে গৌতম আদানি ইতোমধ্যে ৬০ লাখ ডলার এবং তাঁর ভাতিজা সাগর আদানি ১ কোটি ২০ লাখ ডলার জরিমানা দিতে সম্মত হয়েছেন। এ ছাড়া ইরান নিষেধাজ্ঞার নীতি লঙ্ঘনের দায়ে আদানি এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেড আলাদাভাবে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগকে ২৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার জরিমানা দিতে রাজি হয়েছে। তবে দেওয়ানি ও আর্থিক সংকটের সমাধান হলেও, মূল ফৌজদারি মামলা থেকে আদানির নিষ্কৃতি পাওয়ার বিষয়টি এখন সম্পূর্ণ নির্ভর করছে মার্কিন আদালতের কাছে বিচার বিভাগের দেওয়া আগামী সপ্তাহের জবাবের ওপর।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল