প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুন ২০২৬
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমরা
মোঃ রফিকুল ইসলাম , স্টাফ রিপোর্টার ||
ভারতের বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে গত দেড় মাসে অন্তত ২৩টি মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হাজার বছরের পুরোনো মসজিদ, দরগাহ, মাদরাসা ও ঈদগাহ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, এই ধ্বংসযজ্ঞের অধিকাংশই সংঘটিত হয়েছে দিল্লি, উত্তর প্রদেশ, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, গুজরাট ও হরিয়ানায়।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অধিকারকর্মী সংগঠন ‘জাস্টিস ফর অল’ ভারতে মসজিদ ভাঙার ঘটনা দ্রুতগতিতে বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা সম্ভল, বারাণসী এবং জয়পুরে সাম্প্রতিক ঘটনার কথা উল্লেখ করেছে। সংস্থাটি বলেছে, এই ধ্বংসযজ্ঞগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে হচ্ছে না। বারাণসীর ১০০০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক মসজিদ গঞ্জ শহীদা এবং দিল্লির ২০০ বছরের পুরোনো ‘দরগাহ পঞ্চ পীরান’ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। রাজস্থানের জয়পুরের নূরানি মসজিদ, মুম্বাইয়ের বান্দ্রা ও গোরেগাঁওয়ের বেশ কয়েকটি মসজিদ ও দরগাহও এই তালিকায় রয়েছে।ওয়াকফ বোর্ড এবং স্থানীয় তত্ত্বাবধায়কদের অভিযোগ, আইনি বাধা এবং স্থাপনাগুলোর ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও কোনো পূর্ব নোটিস ছাড়া তাড়াহুড়া করে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে।সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ভারতের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় মুসলিমদের ওপর নির্যাতন দিন দিন বাড়ছে। তথাকথিত গোরক্ষা গোষ্ঠীসহ উগ্রবাদী হিন্দু সংগঠনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে হত্যাসহ বহুমাত্রিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তারা। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে অন্তত ২৭ জন মুসলিমকে হত্যা করা হয়। অনেক রাজ্যে তাদের ঘরবাড়ি ও দোকানপাট বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার শিকার মুসলিম সম্প্রদায়ের সর্বশেষ পরিস্থিতি সরেজমিন পরিদর্শন শেষে আমার দেশ-এর কলকাতা প্রতিনিধি জানান, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার আসার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে মুসলমানদের ওপর অত্যাচার শুরু হয়েছে। তপশিয়া ও তিলজলায় বুলডোজার চালিয়ে বহুতল ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বাসিন্দা মুহাম্মদ ইরফান জানান, পুরো কলকাতা শহরজুড়ে অবৈধ নির্মাণ থাকলেও শুধু মুসলিম এলাকায় বুলডোজার চালানো হচ্ছে।অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অফ সিভিল রাইটসের (এপিসিআর) রিপোর্ট বলছে, মে মাসের ৪ থেকে ৭ তারিখের মধ্যে রাজ্যের আটটি জেলায় ব্যাপক সহিংসতা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে অন্তত দুইজনের প্রাণহানি ঘটেছে, যার মধ্যে কোচবিহারের গোসানিমারিতে একটি মসজিদ রক্ষা করতে গিয়ে এক মুসলিম ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতে মুসলিম মালিকানাধীন হোটেল বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং আমতায় ১৫টি বাড়িতে ভাঙচুর চালানোর ঘটনা ঘটেছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল