প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুন ২০২৬
তীব্র তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, বিদ্যুৎহীন ৬৮ হাজার পরিবার
মোঃ রফিকুল ইসলাম , স্টাফ রিপোর্টার ||
ফ্রান্সজুড়ে রেকর্ডভাঙা তীব্র দাবদাহ ও তাপপ্রবাহ জনজীবনকে স্থবির করে তুলেছে। প্রচণ্ড এই উত্তাপের মধ্যেই দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে প্রায় ৬৮ হাজার পরিবার বর্তমানে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ধারণা, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে বুধবার রাতের আগ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফ্রান্সের আবহাওয়া পূর্বাভাস প্রদানকারী সংস্থা দেশটির অর্ধেকেরও বেশি এলাকায় সর্বোচ্চ বা ‘লাল সতর্কসংকেত’ জারি করেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা ৪৩ থেকে ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘর স্পর্শ করার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।চলতি সপ্তাহের শুরু থেকেই ফ্রান্সের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। মঙ্গলবার দেশটির ইতিহাসে উষ্ণতম দিন হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে, যেখানে গড় তাপমাত্রা ২৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লান্দেস অঞ্চলের পিসোস গ্রামে তাপমাত্রা ৪৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া সোমবার দিবাগত রাতটি ছিল ফ্রান্সের ইতিহাসে উষ্ণতম রাত, যখন সারা দেশের গড় তাপমাত্রা ২৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে অবস্থান করছিল। এই ভয়াবহ গরমে গত কয়েকদিনে পানিতে ডুবে অন্তত ৪০ জনের প্রাণহানির তথ্য পাওয়া গেছে। প্যারিস থেকে শুরু করে ব্রিটানি পর্যন্ত বিস্তৃত পশ্চিমাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির আশেপাশে ওঠানামা করছে, যা সপ্তাহজুড়ে অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।বোর্দো শহরের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। সেখানে টানা তিন দিন ধরে তাপমাত্রার নতুন নতুন রেকর্ড তৈরি হচ্ছে। গত বছর যেখানে সর্বোচ্চ ৪১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল, সেখানে চলমান দাবদাহে তা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। শুক্রবার থেকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির পূর্বাভাস থাকলেও আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি এবং আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছে। তীব্র গরমে রাজধানী প্যারিসের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোতেও বিরূপ প্রভাব পড়েছে। ল্যুভ জাদুঘর তাদের ঐতিহাসিক কাঠামোর সুরক্ষায় দর্শনার্থীদের জন্য নির্ধারিত সময়ের আগেই দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে। আইফেল টাওয়ারের কার্যক্রমও সময়সূচির আগেই গুটিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দাবদাহের কারণে বনাঞ্চলে দাবানলের ঝুঁকি অত্যন্ত বেড়ে গেছে, যা নিয়ন্ত্রণে দমকলকর্মীরা হিমশিম খাচ্ছেন।ফ্রান্সের এই চরম আবহাওয়ার প্রভাব ইউরোপের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি এবং স্পেনেও সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর আশঙ্কায় ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের অন্তত এক হাজার স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জার্মানিতে তাপপ্রবাহের কারণে ইতিমধ্যে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ইতালির পনেরোটি শহরে রেড অ্যালার্ট জারি করে শ্রমজীবী মানুষের কাজের সময় কমিয়ে আনা হয়েছে। বেলজিয়ামের একটি বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত গরমের কারণে চূড়ান্ত পরীক্ষা একটি ঠান্ডা গির্জার ভেতর সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্পেনে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট এই ভয়াবহ তাপপ্রবাহ এখন পুরো ইউরোপের জন্য এক বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।সূত্র: আলজাজিরা।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল