প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুন ২০২৬
ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা, নিহত বেড়ে ২৩৫
শামিমা লিয়া, আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর ||
ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে জনজীবন, যা দেশটিকে এক গভীর মানবিক সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। গত বুধবার রাতে আঘাত হানা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৫ জনে। সেই সঙ্গে আহত হয়েছেন দেড় হাজারের বেশি মানুষ, যাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। একের পর এক শক্তিশালী কম্পনে বহু বহুতল ভবন ধসে পড়েছে, আবার অনেক ভবন এমনভাবে হেলে পড়েছে যে সেগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অসংখ্য মানুষ আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যাদের উদ্ধারে স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় রাতে মাত্র এক মিনিটেরও কম ব্যবধানে দেশটিতে যথাক্রমে সাত দশমিক দুই এবং সাত দশমিক পাঁচ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের মাত্রা এতটাই তীব্র ছিল যে, গত প্রায় ১৩০ বছরের মধ্যে এমন ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়নি ভেনেজুয়েলা। বৃহস্পতিবার দিনভর একাধিক শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হওয়ায় উদ্ধারকাজে বারবার ব্যাঘাত ঘটেছে। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্লোস আলভারাদো জানিয়েছেন, হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও বাড়তে পারে।সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা অঞ্চলের করুণ চিত্র হৃদয়বিদারক। সেখানকার একটি ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকা পড়া এক কিশোরীর আর্তনাদ ঘণ্টার পর ঘণ্টা শোনা গেলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। স্বজনদের চোখের সামনেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সেই কিশোরী। একই এলাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকের জীবিত থাকার শব্দ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা, কিন্তু প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মী ও উন্নত প্রযুক্তির অভাবে তাদের বের করে আনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এলাকাটিতে বর্তমানে এক চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে, যার সুযোগ নিয়ে কোথাও কোথাও লুটপাটের ঘটনাও ঘটছে।এই বিপর্যয় মোকাবিলায় ভেনেজুয়েলা সরকার অঞ্চলটিকে দুর্যোগপূর্ণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে। উদ্ধারকাজ সহজ করতে এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। সুইজারল্যান্ড, স্পেন, ফ্রান্স, পর্তুগাল ও মেক্সিকো থেকে উদ্ধারকারী দল এবং বিশেষজ্ঞ পাঠানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের মানবিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে যুদ্ধজাহাজ ও হেলিকপ্টার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চীন, ভারত, ব্রাজিল ও ইরানও সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জাতিসংঘ এবং পোপ লিও চতুর্দশ এই বিপর্যয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।তবে উদ্ধারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে লা গুয়াইরার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি। ভূমিকম্পে বিমানবন্দরটির অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে আকাশপথে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছাতে বিলম্ব ঘটছে। এছাড়া প্রতিবেশী কলম্বিয়া ও ব্রাজিলের কিছু অংশেও এই ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে, যা পুরো দক্ষিণ আমেরিকার ভৌগোলিক অস্থিরতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। ১৯০০ সালের পর থেকে ভেনেজুয়েলার ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ভেনেজুয়েলার এই দুঃসময়ে সারা বিশ্ব এখন একযোগে পাশে দাঁড়িয়েছে, যাতে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে বাকিদের দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হয় এবং বিপর্যস্ত দেশটিকে পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা যায়।সূত্র: এনডিটিভি ।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল