প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬
ব্যাংক খাত স্থিতিশীল রাখতে ৭৫ হাজার কোটি টাকার বেশি সহায়তা
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
দেশের ব্যাংকিং খাতে বিরাজমান তারল্য সংকট নিরসনে এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত সংকটগ্রস্ত বিভিন্ন ব্যাংককে মোট ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি ১১ লাখ টাকার জরুরি তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বুধবার সংসদ অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মোসাম্মৎ শারমীন আক্তারের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।লিখিত প্রশ্নে সংসদ সদস্য জানতে চেয়েছিলেন, তারল্য সংকটের কারণে যেসব ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হচ্ছে, তাদের গ্রাহকদের অর্থপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর উত্তরে অর্থমন্ত্রী জানান, গ্রাহকদের আস্থার সংকট দূর করতে এবং ব্যাংকিং কার্যক্রমে গতিশীলতা ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১৫ জুন ২০২৬ পর্যন্ত বিপুল পরিমাণ এই তারল্য সহায়তা প্রদান করেছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো সহায়তা দেওয়া হয়নি।ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘমেয়াদী শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকার 'ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬' প্রণয়ন করেছে। এই নতুন আইনের আওতায় সমস্যাগ্রস্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন, প্রয়োজনে একীভূতকরণ অথবা অন্য কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। মূলত গত দেড় বছরে দেশের বেশ কিছু শরীয়াহভিত্তিক ও বেসরকারি ব্যাংক তীব্র তারল্য সংকটের মুখোমুখি হয়। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমানত উত্তোলনের ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছিল। অনেক গ্রাহক অভিযোগ করেছিলেন যে, তাদের সঞ্চিত অর্থ তারা সময়মতো উত্তোলন করতে পারছেন না, যার ফলে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ তারল্য সুবিধা, আন্তঃব্যাংক ঋণ সহায়তা এবং বিভিন্ন নীতিগত ছাড়ের মাধ্যমে গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলনের প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা করা এবং ব্যাংকিং খাতের ওপর জনগণের আস্থা অটুট রাখা এখন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে। অর্থমন্ত্রী সংসদকে আশ্বস্ত করেছেন যে, এই খাতকে পুরোপুরি সংকটমুক্ত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয় নিবিড়ভাবে কাজ করছে। গ্রাহকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে সকল সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও সংস্কারের মাধ্যমে পুরো ব্যাংকিং খাতকে একটি শক্তিশালী কাঠামোর ওপর দাঁড় করানোর কাজ চলমান রয়েছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল