প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬
জুয়া ও হুন্ডির অভিযোগে ৫৫ হাজার এমএফএস অ্যাকাউন্টের লেনদেন ফ্রিজ
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
দেশে অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচারের প্রবণতা রোধে কঠোর অবস্থানে সরকার। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন যে, এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৫ হাজার মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা এমএফএস অ্যাকাউন্ট স্থগিত বা ফ্রিজ করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনের করা এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী দেশের আর্থিক খাতে অনলাইন জুয়ার নেতিবাচক প্রভাব ও তা দমনে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেনঅর্থমন্ত্রী জানান, অনলাইন জুয়ার মতো সাইবার অপরাধ দমন করতে সরকার চলতি বছরের ১০ এপ্রিল সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৬ জারি করেছে। নতুন এই আইনের বিশ ধারায় অনলাইন জুয়াকে একটি সুনির্দিষ্ট শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই আইনের আওতায় এখন থেকে অনলাইন জুয়ার জন্য কোনো ধরনের অ্যাপ, পোর্টাল বা ডিভাইস তৈরি ও পরিচালনা করা, অনলাইন জুয়ায় অংশ নেওয়া, কিংবা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তা বা প্রচারণা চালানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড কিংবা এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড, অথবা উভয় প্রকার দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।আইনটি কার্যকর হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট এ বিষয়ে তৎপরতা জোরদার করেছে। গত মে মাসে সংস্থাটি অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত গোয়েন্দা প্রতিবেদন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে। অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, এরই মধ্যে এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বর্তমানে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার জন্য গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যাচ্ছে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাটি।অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে বাংলাদেশ ব্যাংক আরও আগেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। গত বছরের মে মাসের ২৮ তারিখ দেশের সকল মোবাইল ব্যাংকিং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়। ওই নির্দেশনায় এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের মার্চেন্ট ও গ্রাহকদের লেনদেন কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়। যদি কোনো গ্রাহক বা মার্চেন্ট অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে, তবে তাদের অ্যাকাউন্ট তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি অবহিত করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়।আর্থিক অপরাধের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনলাইন জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে গ্রাহকদের সতর্ক করতে নিয়মিত প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে। অর্থমন্ত্রী সংসদে আশ্বস্ত করেছেন যে, এই সচেতনতামূলক কার্যক্রমকে আরও ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। দেশের সামগ্রিক আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অবৈধ উপায়ে অর্থ পাচার রোধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল