প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬
১২৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পন, ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে ব্যাপক হতাহতের শঙ্কা
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে এক নজিরবিহীন প্রাকৃতিক বিপর্যয়। গত বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার পরপরই দেশটিতে আঘাত হানে দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকম্প, যা গত ১২৫ বছরের ইতিহাসে দেশটিতে ঘটা সবচেয়ে বিধ্বংসী ভূকম্পন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এই কম্পনগুলো এতটাই তীব্র ছিল যে, পুরো ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ড কেঁপে উঠেছে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর উপকূলীয় অঞ্চল পর্যন্ত এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে।প্রথম কম্পনটি আঘাত হানে রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে। এর মাত্র ৪০ সেকেন্ডের ব্যবধানে ইউমারের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানে আরও শক্তিশালী ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। এই শক্তিশালী কম্পনের ফলে উপকূলীয় অঞ্চলসহ পুরো দেশটিতে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ক্যারিবীয় উপকূলের নিকটবর্তী এলাকাগুলোতে সুনামির ঝুঁকি থাকায় জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি পুয়ের্তো রিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জের জন্যও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিপর্যয়ের চিত্র ফুটে উঠছে। সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বড় ধরনের কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে অনেক বহুতল ভবনের দেয়াল ধসে পড়েছে, কংক্রিটের স্তূপ থেকে ধুলোর কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কম্পনের তীব্রতায় সিঁড়ি ভেঙে পড়া এবং ছাদ থেকে আসবাবপত্র পড়ে যাওয়ার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। কারাকাসের আলতামিরাসহ বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক ভবনগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে বহু মানুষ এখন গৃহহীন।ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেয়ো জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনী, দমকল ও স্বেচ্ছাসেবক দল দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকার এবং পরবর্তী আফটারশকের আশঙ্কায় আপাতত নিরাপদ খোলা জায়গায় অবস্থান করার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ খুব শীঘ্রই জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।পুরো দেশ এখন এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দুর্যোগ মোকাবিলা কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় এবং অনেক এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে কিছুটা সময় লাগছে। ভেনেজুয়েলার এই বিপর্যয় কেবল জাতীয় পর্যায়ে নয়, বরং আন্তর্জাতিকভাবেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের অস্বাভাবিক ঢেউ এবং শক্তিশালী আফটারশকের ঝুঁকি থাকায় স্থানীয় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।সূত্র: আল জাজিরা ।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল