প্রিন্ট এর তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬
গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তিন সুপারস্টার
স্পোর্টস ডেস্ক ||
ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই সাধারণত দলগত অর্জনের এক মহাকাব্য। কিন্তু ২০২৬ সালের এই আসর যেন সেই চিরাচরিত ধারণাকে বদলে দিয়ে এক নতুন গল্পের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এবারের বিশ্বকাপে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন তিনজন ফুটবল জাদুকর—লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং আর্লিং হ্যালান্ড। গোল করা, রেকর্ড ভাঙা আর একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার নেশায় যেন তারা মাঠের লড়াইয়ে নেমেছেন। তাদের এই অদৃশ্য প্রতিযোগিতা ফুটবলপ্রেমীদের দিচ্ছে এক অনন্য অভিজ্ঞতার স্বাদ।আর্জেন্টিনার প্রাণভোমরা লিওনেল মেসির কথা আগে না বললেই নয়। ডালাসে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি শুধু ম্যাচই জেতাননি, বরং ভেঙে দিয়েছেন বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ রেকর্ডগুলোর একটি। মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড টপকে মেসি এখন ১৮ গোলের মালিক। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা যে পাঁচটি গোল করেছে, তার প্রতিটিই এসেছে ৩৮ বছর বয়সী এই মহাতারকার পা থেকে। বয়সের ভার যে তার কাছে কেবলই একটি সংখ্যা, তা তিনি বারবার প্রমাণ করছেন। তিনি শুধু সময়ের সঙ্গে লড়াই করছেন না, বরং নিজের শ্রেষ্ঠত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।মেসির এই অপ্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থানের বিপরীতে ছায়ার মতো লেগে আছেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ইরাকের বিপক্ষে নিজের আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির ম্যাচে দুই গোল করে তিনি জানান দিয়েছেন, সিংহাসনের লড়াইয়ে তিনিও কম যান না। তিন বিশ্বকাপ মিলিয়ে তার গোলসংখ্যা এখন ১৬। মাত্র ২৭ বছর বয়সে যে অবিশ্বাস্য গতিতে তিনি রেকর্ড গড়ে চলেছেন, তাতে খুব সহজেই অনুমান করা যায় যে তার সামনে আরও অন্তত দুটি বিশ্বকাপ পড়ে আছে। এমবাপ্পেকে নিয়ে ফুটবল বিশ্লেষকদের ধারণা, তিনি এখন এমন এক লক্ষ্য নিয়ে খেলছেন যা সরাসরি মেসির অর্জনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। মেসি যেখানে শিখরে অবস্থান করছেন, এমবাপ্পে সেখানে একজন দক্ষ শিকারির মতো তাকে ধাওয়া করছেন।এই দুই মহাতারকার মাঝে যেন অনেকটা আচমকাই হাজির হয়েছেন নরওয়ের গোলমেশিন আর্লিং হ্যালান্ড। বিশ্বকাপের আগে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তার নাম খুব একটা উচ্চারিত না হলেও, মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে তিনি সবার মনোযোগ কেড়ে নিয়েছেন। অভিষেক বিশ্বকাপে নিজের প্রথম দুই ম্যাচে দুটি করে গোল করে তিনি এখন এমবাপ্পের মতোই চার গোল নিয়ে এগিয়ে চলেছেন। নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসে এমন দাপুটে অভিষেক আগে কেউ দেখেনি। ফুটবলবোদ্ধাদের মতে, প্রকৃতিগত প্রতিভার বিচারে মেসি সবার ওপরে থাকলেও, বল জালে পাঠানোর সহজাত সক্ষমতায় হ্যালান্ডের চেয়ে কার্যকর স্ট্রাইকার বর্তমানে বিশ্ব ফুটবলে বিরল।পরিসংখ্যান বলছে, এই ত্রয়ীর লড়াইয়ে এবারের বিশ্বকাপটি ১৯৫৪ সালের সেই ঐতিহাসিক আসরের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। সেবার যেমন গোলবন্যার জোয়ার ছিল, এবারও প্রথম দুই ম্যাচ শেষে তিন ফুটবলারের গোলসংখ্যা চার বা তার বেশি। জাস্ট ফন্টেইনের এক আসরে সর্বোচ্চ ১৩ গোলের রেকর্ডটিও কি এবার ভেঙে যাবে? এই প্রশ্ন এখন সবার মুখে। ফ্রান্সের সাবেক ডিফেন্ডার গায়েল ক্লিশি মনে করেন, বর্তমান প্রজন্মের ফুটবলারদের সবচেয়ে বড় গুণ হলো তাদের ভয়হীন মানসিকতা। তারা বয়স বা নামের প্রতি কোনো মোহ পোষণ করে না, কেবল পারফরম্যান্সের জোরেই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে চায়।মেসির অদম্য ক্ষুধা, এমবাপ্পের ক্ষিপ্রতা আর হ্যালান্ডের প্রাণঘাতী গোল করার ক্ষমতা—সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপ এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের কথায় ফুটে উঠেছে ভক্তদের মনের ভাব, যারা এই তিনজনকে দেখে রীতিমতো বিস্মিত। মেসি যেখানে ম্যাচ তৈরি করেন ও রেকর্ড গড়েন, এমবাপ্পে সেখানে তা নিজের করার পণ করেন, আর হ্যালান্ড প্রস্তুত থাকেন শ্রেষ্ঠত্বের ভাগ বসাতে। যদিও গোল্ডেন বুটের ট্রফি শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠবে তা জানতে আরও অনেকটা পথ বাকি, তবে ফুটবল বিশ্ব যে এখন এই ত্রয়ীর শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই দেখে মুগ্ধ, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল