প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬
ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে ট্রাম্পকে তীব্র ভর্ৎসনা, কংগ্রেসে প্রস্তাব পাস
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক কার্যক্রমের প্রশ্নে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে মার্কিন কংগ্রেস এক বিরল ও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেটে সম্প্রতি পাস হওয়া একটি প্রস্তাবকে প্রেসিডেন্টের ইরান যুদ্ধনীতির প্রতি স্পষ্ট অনাস্থা ও ভর্ৎসনা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। প্রস্তাবটিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যে কোনো সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে হলে প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই কংগ্রেসের আগাম অনুমোদন নিতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই প্রস্তাবটি পাসের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাট সদস্যদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটরও সমর্থন দিয়েছেন, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় ধরনের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও ৫০-৪৮ ভোটে এই প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়েছে। এতে ইরান যুদ্ধ এবং এপ্রিল মাসে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে দুই দলের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে বিরাজমান গভীর উদ্বেগের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। এর আগেও চলতি জুন মাসে প্রতিনিধি পরিষদে একই ধরনের একটি প্রস্তাব ২১৪-২০৮ ভোটে পাস হয়েছিল। যদিও এই প্রস্তাবগুলো সরাসরি প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হয় না এবং এর আইনি বাধ্যবাধকতাও সীমিত, তবুও এর রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। ১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ারস রেজল্যুশন কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো কংগ্রেসের উভয় কক্ষ কোনো চলমান সামরিক অভিযান বন্ধের নির্দেশনা দিয়ে এমন একটি সমবর্তী প্রস্তাব পাস করল। এর আগে ২০১৯ সালে ইয়েমেন যুদ্ধের ক্ষেত্রে একই ধরনের প্রচেষ্টায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেটো দিয়েছিলেন।হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে অবশ্য দাবি করা হয়েছে যে, এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর বর্তমানে এমন কোনো সক্রিয় যুদ্ধ পরিস্থিতি নেই, যেখান থেকে মার্কিন বাহিনীকে নতুন করে প্রত্যাহার করতে হবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম এবং জনগণের মধ্যে যুদ্ধবিরোধী মনোভাব তীব্রতর হওয়ার ফলে হোয়াইট হাউসের ওপর চাপ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এই ভোটাভুটির সময় দুই প্রবীণ রিপাবলিকান সিনেটর মিচ ম্যাককনেল ও ডেভ ম্যাককরমিক অনুপস্থিত ছিলেন, অন্যদিকে র্যান্ড পল, লিসা মারকাউস্কি, সুসান কলিন্স এবং বিল ক্যাসিডির মতো চারজন রিপাবলিকান সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে একমাত্র জন ফেটারম্যান এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন।আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান দলের অভ্যন্তরীণ এই বিভাজন বেশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের গৃহীত বিভিন্ন নীতি—যার মধ্যে ইউক্রেন সহায়তা এবং বিপুল অংকের প্রতিরক্ষা তহবিল গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে—তা নিয়ে দলের একাংশ প্রকাশ্যে দ্বিমত পোষণ করছে। এদিকে পেন্টাগন ইরান যুদ্ধের ব্যয় নির্বাহের জন্য কংগ্রেসের কাছে প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ চেয়েছে। মার্কিন আইন অনুযায়ী, কোনো সামরিক অভিযান ৬০ দিনের বেশি চালিয়ে যেতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সেই সময়সীমার হিসাব নতুন করে শুরু হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকের আওতায় সংঘাতের স্থায়ী অবসান নিয়ে কাজ করছে, যেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের বিষয়ে একটি বিস্তৃত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য দুই দেশের হাতে ৬০ দিন সময় রয়েছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল