প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬
বিদেশি গাছের আগ্রাসন রুখে প্রকৃতি ফেরাতে দেশি বৃক্ষের বিকল্প নেই
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
শৈশবের
চেনা
সবুজ
আজ
যেন
কেবলই
স্মৃতির
পাতায়।
একসময়
যে
গ্রাম
ছিল
হাজারো
পাখপাখালি,
লতাগুল্ম
আর
জোনাকির
মেলা,
তথাকথিত
আধুনিকায়নের
ধাক্কায়
তা
আজ
বিপন্ন।
অপরিকল্পিত
নগরায়ণ
আর
বৃক্ষশূন্যতার
কারণে
দেশের
সামগ্রিক
প্রতিবেশব্যবস্থা
এখন
এক
চরম
সংকটের
মধ্য
দিয়ে
যাচ্ছে।
জলবায়ু
পরিবর্তন,
বনভূমি
ধ্বংস
এবং
জীববৈচিত্র্যের
আশঙ্কাজনক
অবক্ষয়ের
এই
সন্ধিক্ষণে
দেশব্যাপী
২৫
কোটি
গাছ
লাগানোর
মহাপরিকল্পনা
গ্রহণ
করেছে
সরকার।
তবে
এই
বিশাল
উদ্যোগের
প্রকৃত
সাফল্য
নির্ভর
করছে
একটি
মৌলিক
সিদ্ধান্তের
ওপর—আমরা
ঠিক
কী
গাছ
লাগাচ্ছি? শুধু
সংখ্যার
বিচারে
কোটি
কোটি
চারা
রোপণ
করলেই
বনায়ন
সফল
হয়
না।
প্রকৃত
সুফল
পেতে
প্রয়োজন
অঞ্চলভিত্তিক
ও
পরিবেশোপযোগী
দেশি
বৃক্ষ,
লতা,
গুল্ম
ও
জলজ
উদ্ভিদের
পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
প্রকৃতিকে
তার
নিজস্ব
স্বকীয়তায়
ফিরিয়ে
দিতে
এই
উদ্যোগকে
কেবল
একটি
প্রশাসনিক
কর্মসূচি
হিসেবে
দেখলে
চলবে
না;
একে
রূপ
দিতে
হবে
জাতীয়
আন্দোলনে।
গবেষক,
পরিবেশকর্মী
ও
প্রশাসনের
সমন্বিত
প্রয়াসই
পারে
প্রধানমন্ত্রীর
এই
দূরদর্শী
পরিকল্পনাকে
বাস্তব
রূপ
দিতে।বাংলাদেশ
মূলত
২২টি
ভিন্ন
জীব-পরিবেশীয়
অঞ্চলে
বিভক্ত।
পাহাড়ি
অঞ্চল,
শালবন,
মধুপুর
গড়,
সুন্দরবন,
হাওড়
কিংবা
উপকূলীয়
অঞ্চল—প্রতিটি
জায়গার
মাটি,
জলবায়ু
ও
জীববৈচিত্র্যের
গঠন
সম্পূর্ণ
আলাদা।
একটি
অঞ্চলের
উদ্ভিদবৈচিত্র্যই
নির্ধারণ
করে
সেখানে
কী
ধরনের
বন্যপ্রাণী
ও
কীটপতঙ্গ
বাস
করবে।
স্থানীয়
পরিবেশের
সঙ্গে
খাপ
খাইয়ে
নেওয়া
দেশি
গাছগুলো
হারিয়ে
গেলে
পুরো
প্রতিবেশব্যবস্থাই
তাসের
ঘরের
মতো
ভেঙে
পড়ে।
তাই
চিরাচরিত
‘গাছ
লাগান,
পরিবেশ
বাঁচান’
স্লোগান
বদলে
এখন
সময়
এসেছে
‘দেশি
ও
অঞ্চল-উপযোগী
গাছ
লাগান,
পরিবেশ
বাঁচান’
নীতি
গ্রহণ
করার।গত
কয়েক
দশকে
দ্রুত
বর্ধনশীল
বিদেশি
গাছ
যেমন—ইউক্যালিপ্টাস
ও
আকাশমণির
ব্যাপক
বিস্তার
ঘটেছে।
সাময়িক
অর্থনৈতিক
লাভ
দেখালেও
এগুলো
দেশের
পরিবেশের
জন্য
মারাত্মক
ক্ষতিকর
প্রমাণিত
হয়েছে।
ইউক্যালিপ্টাস: মাটি থেকে বিপুল পরিমাণ পানি শোষণ করে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নামিয়ে দেয়। এর পাতা সহজে না পচায় মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা নষ্ট হয়।
আকাশমণি: এর একক বনায়নের ফলে বনের নিচের স্তরে প্রাকৃতিক ঘাস, লতা বা গুল্ম জন্মাতে পারে না।
প্রকৃত
বন
মানে
কেবল
বড়
গাছের
সমষ্টি
নয়;
এটি
লতা,
গুল্ম,
ছত্রাক
ও
অণুজীবের
এক
জটিল
সহাবস্থান।
বিদেশি
গাছ
এই
চক্রকে
ধ্বংস
করে
প্রাকৃতিক
বনকে
কেবলই
‘কাঠের
বাগানে’
পরিণত
করছে।
দুঃখজনকভাবে,
এখনও
কোনো
কোনো
মহলে
সরকারি
নার্সারির
লাখ
লাখ
আকাশমণির
চারা
রোপণের
যে
অবৈজ্ঞানিক
প্রচারণা
দেখা
যাচ্ছে,
তা
সরকারের
এই
পরিবেশবান্ধব
মহাপরিকল্পনাকে
ব্যাহত
করার
শামিল।দেশি বৃক্ষ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব গাছ বন্যপ্রাণীর জন্য প্রাকৃতিক খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করে এবং পরাগায়নকারী পতঙ্গ ও মৌমাছিকে আকর্ষণ করে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। অন্যদিকে, ইউক্যালিপ্টাস ও আকাশমণির মতো বিদেশি বৃক্ষের কিছু নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। এসব গাছ অতিরিক্ত পানি শোষণ করে মাটি শুকিয়ে ফেলে, ফলে স্থানীয় উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। পাশাপাশি এগুলো বনের স্বাভাবিক স্তরবিন্যাস নষ্ট করে জীববৈচিত্র্য কমিয়ে দেয় এবং পরিবেশগত ভারসাম্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদে হুমকি সৃষ্টি করে।হাজার
বছরের
বিবর্তনে
বট,
পাকুড়,
ডুমুর,
কদম,
হিজল,
করচ,
অর্জুন
ও
শিমুলের
মতো
দেশি
গাছের
সঙ্গে
বন্যপ্রাণীর
এক
নিবিড়
মিতালি
তৈরি
হয়েছে।
ফলজ
ও
ফুল
উৎপাদনকারী
এসব
গাছ
পাখি,
মেছো
বিড়াল,
বানর,
কাঠবিড়ালি
এবং
পরাগায়নকারী
পতঙ্গের
জীবনধারণের
প্রধান
উৎস।
কিন্তু
বিদেশি
বনায়নের
কারণে
এই
খাদ্য
ও
আশ্রয়ের
শৃঙ্খল
ভেঙে
পড়ায়
বহু
প্রজাতির
পাখি,
উভচর
ও
সরীসৃপ
আজ
বিলুপ্তির
ঝুঁকিতে।বাংলাদেশের
বহু
বিপন্ন
বন্যপ্রাণী
এখন
সংরক্ষিত
বনের
বাইরে
সরকারি
আবাসিক
এলাকা,
বিশ্ববিদ্যালয়
ক্যাম্পাস
এবং
সামরিক
স্থাপনার
সবুজ
অঞ্চলে
আশ্রয়
নিয়েছে।
মানুষের
চাপ
কম
থাকায়
এসব
এলাকা
বন্যপ্রাণীর
শেষ
ভরসাস্থল
হয়ে
উঠছে।
কিন্তু
অনেক
সময়
সৌন্দর্যায়নের
নামে
এখানেও
বিদেশি
শোভাবর্ধনকারী
গাছ
লাগানো
হয়।বিশ্ববিদ্যালয়
ও
সরকারি
চত্বরগুলোকে
‘নগর
জীববৈচিত্র্য
অভয়ারণ্য’
হিসেবে
গড়ে
তুলতে
সেখানে
পরিকল্পিতভাবে
বট,
অশ্বত্থ,
চালতা,
ডেউয়া,
জাম
ও
আমলকীর
মতো
ফলদ
ও
বনজ
গাছ
রোপণ
করা
উচিত।
একই
সঙ্গে
জলাশয়ের
চারপাশে
দেশীয়
জলজ
উদ্ভিদ
ও
ঝোপঝাড়
সংরক্ষণ
করা
জরুরি।বৃক্ষরোপণ
কর্মসূচিকে
সফল
করতে
প্রতিটি
জেলার
জন্য
আলাদা
পরিবেশগত
কর্মপরিকল্পনা
তৈরি
করতে
হবে।
দেশের
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর
উদ্ভিদবিদ্যা,
প্রাণিবিদ্যা,
বনবিদ্যা
ও
পরিবেশবিজ্ঞান
বিভাগের
বিশেষজ্ঞদের
এই
প্রক্রিয়ায়
সরাসরি
সম্পৃক্ত
করা
আবশ্যক।পাশাপাশি,
নতুন
প্রজন্মকে
এই
আন্দোলনের
অংশ
করতে
স্কুল-কলেজে
স্থানীয়
জীববৈচিত্র্যভিত্তিক
শিক্ষা
চালু
করা
প্রয়োজন।
একটি
শিশু
যখন
ছোটবেলা
থেকেই
হিজল,
করচ
বা
ডুমুরের
পরিবেশগত
গুরুত্ব
বুঝতে
শিখবে,
তখন
সে
নিজেই
প্রকৃতির
রক্ষক
হয়ে
উঠবে।
জলবায়ু
পরিবর্তনের
কারণে
বাংলাদেশ
বিশ্বের
অন্যতম
ঝুঁকিপূর্ণ
দেশ
হিসেবে
চিহ্নিত।
বিগত
বছরগুলোতে
দেশের
প্রাকৃতিক
বনাঞ্চল
আশঙ্কাজনক
হারে
হ্রাস
পাওয়ায়
তীব্র
তাপপ্রবাহ,
অনাবৃষ্টি
ও
আকস্মিক
বন্যার
মতো
প্রাকৃতিক
দুর্যোগের
প্রকোপ
বেড়েছে।
এই
পরিবেশগত
বিপর্যয়
মোকাবিলায়
এবং
দেশের
বনভূমির
পরিমাণ
আন্তর্জাতিক
মানদণ্ডে
উন্নীত
করার
লক্ষ্যে
বর্তমান
সরকারের
পক্ষ
থেকে
দেশব্যাপী
২৫
কোটি
বৃক্ষরোপণের
এই
ঐতিহাসিক
উদ্যোগ
গ্রহণ
করা
হয়েছে।
বিজ্ঞানসম্মত
উপায়ে
দেশি
প্রজাতির
গাছ
রোপণের
মাধ্যমে
দেশের
হারিয়ে
যাওয়া
প্রতিবেশ
ও
বন্যপ্রাণীর
নিরাপদ
আবাসভূমি
ফিরিয়ে
আনাই
এই
মহাপরিকল্পনার
মূল
লক্ষ্য।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল