প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬
পাঁচ লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নিয়ে আসছে ক্রিয়েটেড ইন বাংলাদেশ
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
বাংলাদেশের সৃজনশীল শিল্পকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা তৈরি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার লক্ষ্যে একটি নতুন জাতীয় ব্র্যান্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘ক্রিয়েটেড ইন বাংলাদেশ’ নামক এই নতুন ব্র্যান্ডিং উদ্যোগের রূপরেখা তুলে ধরেছেন। সৃজনশীল অর্থনীতিকে জাতীয় অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত করে একে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এই ব্র্যান্ডের মূল উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উৎসবে এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের সৃজনশীল সম্ভাবনাকে তুলে ধরা এবং দেশীয় শিল্পী ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশ্ববাজারে শক্ত অবস্থান তৈরিতে সহায়তা করা।সরকারের এই পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো সৃজনশীল খাতের অবদান দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের বা জিডিপির ১ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং এই খাতে আগামী দিনগুলোতে অন্তত পাঁচ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনার জন্য প্রাথমিকভাবে বাজেটে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল থেকে আরও ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং কর-সুবিধাকে সমন্বয় করে শিল্পী, উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য একটি সহায়ক ও শক্তিশালী পরিবেশ তৈরি করাই সরকারের মূল কৌশল।আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। চলচ্চিত্র শিল্প ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও প্রযুক্তিনির্ভর ফিল্ম স্টুডিও নির্মাণ করা হবে। রাজধানীর পূর্বাচলে ১৬০ একর জমির ওপর পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেলে একটি বিশ্বমানের সেন্ট্রাল ক্রিয়েটিভ হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই কার্যক্রম কেবল রাজধানীতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও আঞ্চলিক হাব স্থাপন করে শিশু একাডেমি ও শিল্পকলা একাডেমির মাধ্যমে তা বিস্তৃত করা হবে। বিশেষ করে গ্রামীণ হস্তশিল্প, তাঁতজাত পণ্য ও শীতল পাটির মতো ঐতিহ্যবাহী শিল্পের সাথে জড়িত কারিগরদের ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ উদ্যোগের মাধ্যমে বৈশ্বিক বিপণন ব্যবস্থায় যুক্ত করা হবে।এই শিল্পকে উৎসাহিত করতে কর কাঠামোয় বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব এসেছে। কনটেন্ট নির্মাণ থেকে অর্জিত সব ধরনের আয়কে সম্পূর্ণ আয়করমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট নির্মাতাদের সেবার ওপর বিদ্যমান ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। উচ্চপ্রযুক্তির সিনেমাটোগ্রাফি ক্যামেরা ও সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশে আনা হয়েছে এবং বাদ্যযন্ত্রের ওপর থেকে সব ধরনের নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মের সৃজনশীলতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে একটি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক সৃজনশীল অর্থনীতি গড়ে তোলাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এই সমন্বিত উদ্যোগগুলো দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ সৃজনশীল অর্থনীতির দেশে রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল