প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬
ইউরোপজুড়ে তাপের তাণ্ডব ফ্রান্সে দুই দিনে প্রাণ গেল ১৮ জনের
শামিমা লিয়া, আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর ||
রেকর্ডভাঙা তাপমাত্রা ও অসহনীয় তাপপ্রবাহের কবলে পড়ে ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত রবিবার ও সোমবার—এই দুই দিনে দেশটিতে অন্তত আঠারো জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা জাতীয় পর্যায়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। ফ্রান্সের আবহাওয়া দপ্তর ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বোর্দোতে গত কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গণ্ডি অতিক্রম করেছে, যা এই শহরের ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড। অতীতে কখনো এই অঞ্চলে তাপমাত্রা এমন চরম মাত্রায় পৌঁছায়নি। প্রচণ্ড এই দাবদাহে বোর্দোর বয়োজ্যেষ্ঠদের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে; সেখানে মারা যাওয়া তিনজনের বয়সই আশির কোঠা থেকে পঁচানব্বই বছরের মধ্যে।অন্যদিকে, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় কার্পেন্ত্রাস জেলায় হৃদয়বিদারক এক দুর্ঘটনায় দুই ও চার বছর বয়সী দুই শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অত্যন্ত উত্তপ্ত একটি গাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও, তীব্র দাবদাহ থেকে সাময়িক স্বস্তি পাওয়ার আশায় নদী, হ্রদ বা সমুদ্রের পানিতে দীর্ঘ সময় কাটানোর ফলে ডুবে যাওয়ার ঘটনাও আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। ফ্রান্সের বেসামরিক নিরাপত্তা সেবা বিভাগের তথ্যমতে, গত দুই দিনে পানিতে ডুবেই মোট তেরো জনের মৃত্যু হয়েছে। কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে বারবার নাগরিকদের সতর্ক করে বলা হচ্ছে যেন তারা যেনতেন জলাশয়ে না নেমে কেবল তত্ত্বাবধানাধীন স্থানেই সাঁতার কাটেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে দেশটির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদানের সময়সূচি পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।শুধু ফ্রান্স নয়, এবারের জুন মাসে পুরো ইউরোপ মহাদেশই এক অস্বাভাবিক গরমের সাক্ষী হচ্ছে। সাধারণত শীতল অঞ্চল হিসেবে পরিচিত স্পেনের উত্তরাঞ্চলীয় স্যান সেবাস্তিয়ানে জুনে তাপমাত্রা বিশ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচেই থাকার কথা। কিন্তু এবার সেখানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য নজিরবিহীন। একই অবস্থা যুক্তরাজ্যেও। ১৯৫৭ ও ১৯৭৬ সালে দেশটিতে যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড হয়েছিল, এবারের জুন মাসে তা ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় পারদ ৩৫ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কোঠায় ছিল, যা দেশটির জনজীবনকে স্থবির করে দিয়েছে।লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের চরম আবহাওয়া ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ক্লেয়ার বার্নস এই পরিস্থিতির পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ওমেগা ব্লক নামক একটি বিশেষ আবহাওয়াগত পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছেন। তার মতে, বর্তমানে উত্তর আফ্রিকা ও সাহারা অঞ্চল থেকে উষ্ণ বাতাস ইউরোপের ওপর বিস্তৃত এক বিশাল এলাকায় আটকা পড়েছে। ওমেগা ব্লকের কারণে এই উষ্ণ বাতাস খুব ধীরগতিতে অগ্রসর হওয়ায় কোথাও স্বস্তিদায়ক ঠাণ্ডা বাতাসের প্রবাহ তৈরি হচ্ছে না। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব তাপপ্রবাহ ও ঝড়ের মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলোকে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও ঘন ঘন করে তুলছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে, আর ইউরোপজুড়ে এখন কেবলই উত্তাপ ও অস্বস্তির রাজত্ব।সূত্র: রয়টার্স।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল