প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬
উজানের ঢলে তিস্তায় হু হু করে বাড়ছে পানি বিপৎসীমার ছুঁইছুঁই, খুলে দেওয়া হলো জলকপাট
সুমাইয়া জাবির , ন্যাশনাল ডেস্ক এডিটর ||
উজানে অব্যাহত ভারি বর্ষণের ফলে আবারও তিস্তা নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করেছে, যা নীলফামারীসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে বন্যার আতঙ্ক তৈরি করেছে। সোমবার রাত নয়টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র দশ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির এই দ্রুত বৃদ্ধি পরিস্থিতিকে চরম উদ্বেগজনক করে তুলেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড তিস্তা ব্যারাজের সবকটি অর্থাৎ ৪৪টি জলকপাটই খুলে রেখেছে।পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, গত কয়েকদিন ধরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও সোমবার সন্ধ্যা থেকে পানি বাড়ার গতি তীব্রতর হয়। মাত্র ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে তিস্তার পানি প্রায় ঊনত্রিশ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। নদীর এমন আচরণে নদী তীরবর্তী এবং চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। অনেক এলাকায় কৃষকদের রোপণ করা ফসলি জমি আবারও তলিয়ে যেতে শুরু করায় চাষিদের মাথায় হাত পড়েছে। গত কয়েকদিনের বন্যায় এমনিতেই তারা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, এখন নতুন করে পানি বাড়লে সেই ক্ষত আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।ভারতের উজানের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখলে দেখা যায়, মেখলিগঞ্জ পয়েন্টে পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই প্রভাবে বাংলাদেশেও পানি বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া পয়েন্টে কমলা সংকেত জারি করেছে এবং নদীতীরবর্তী মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মাইকিং ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে মানুষকে উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হচ্ছে।পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উজানে বৃষ্টিপাত না থামা পর্যন্ত বিপদের ঝুঁকি কমছে না। যদিও বন্যা নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে, তবে নদীর পানির এই আকস্মিক স্ফীতি মোকাবেলা করা কঠিন হয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দিনের বেলায় পানি কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে পানি হু হু করে বাড়তে থাকে, যে কারণে তাদের ঘরবাড়ি ও গবাদি পশু নিয়ে নিরাপদে সরে যাওয়ার সময়টুকুও তারা পাচ্ছেন না। প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং যে কোনো জরুরি অবস্থা মোকাবেলার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। আগামী কয়েক ঘণ্টা বা দিন পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে তিস্তাপারের মানুষের ভাগ্য
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল