প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬
তীব্র দাবদাহে গাজায় চরম মানবিক বিপর্যয় স্থায়ী আবাসনহীন ১০ লাখ মানুষ
শামিমা লিয়া, আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর ||
গাজায় গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহ শুরু হওয়ার সাথে সাথে সেখানকার সাধারণ মানুষের মানবিক বিপর্যয় এক চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই ভূখণ্ডে এখনো প্রায় দশ লাখ মানুষ মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে কোনো স্থায়ী আবাসন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের ভয়াবহতা ও দীর্ঘস্থায়ী সংকটের ফলে লাখ লাখ মানুষ তাদের ঘরবাড়ি হারিয়ে বর্তমানে তাঁবু বা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন।সংস্থাটির প্রতিবেদনে ‘শেল্টার ক্লাস্টার’-এর উপাত্ত তুলে ধরে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রায় এক লাখ সত্তর হাজার পরিবার তাঁবুর নিচে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা এখানেই শেষ নয়; প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চিত জীবন কাটাচ্ছে এবং আরও বায়ান্ন হাজার পরিবার অত্যন্ত ঘিঞ্জি ও অস্বাস্থ্যকর আশ্রয়কেন্দ্রে গাদাগাদি করে অবস্থান করছে। এই মানুষদের জন্য প্রয়োজনীয় প্লাস্টিক শিট, প্লাইউড ও দড়ির মতো অতি জরুরি আশ্রয়সামগ্রীর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, প্রায় আট লাখ পঞ্চাশ হাজার মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো যাচ্ছে না, যা বাস্তুচ্যুতদের নিরাপদ আশ্রয়ের স্বপ্নকে আরও দূরে ঠেলে দিচ্ছে।গাজার এই সংকট কেবল আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে তৈরি হয়নি। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, ব্যাপক অবকাঠামোগত ধ্বংসযজ্ঞ এবং মানুষের ওপর ক্রমাগত চাপিয়ে দেওয়া বাস্তুচ্যুতির ঘটনা পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে গেছে। এছাড়া মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথে সৃষ্ট নানা বাধা ও জটিলতা এই দুর্ভোগকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে তাপমাত্রা যখন পঁয়ত্রিশ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছাবে, তখন তাঁবুতে থাকা মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও শারীরিক কষ্ট অকল্পনীয় পর্যায়ে চলে যাবে। সংক্রামক রোগ ও পানিশূন্যতা এই পরিস্থিতিকে আরও ভয়ংকর করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।প্রায় ৯৮৭ দিন ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের কারণে গাজার সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে এসেছে এক অন্তহীন অন্ধকার। স্থায়ী আবাসন থেকে বঞ্চিত হয়ে অমানবিক পরিবেশে দিনাতিপাত করা এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেও বাস্তবিক অর্থে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। মানবিক সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে বারবার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে যে, যদি দ্রুত কার্যকরভাবে ত্রাণসামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করা না যায় এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করা না হয়, তবে গাজার বর্তমান মানবিক বিপর্যয় এক ভয়াবহ ও দীর্ঘস্থায়ী ট্র্যাজেডিতে রূপ নেবে। অসহায় মানুষগুলো এখন কেবল বাঁচার জন্য এক টুকরো নিরাপদ আশ্রয়ের প্রতীক্ষায় দিন গুনছে।সূত্র: এনআরসি ।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল