প্রিন্ট এর তারিখ : ২২ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬
সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিজিটাল বোর্ড: বড় পরিবর্তনের পথে প্রাথমিক শিক্ষা
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের লক্ষ্যে নতুন কারিকুলাম বা শিক্ষাক্রম প্রণয়নের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে বর্তমান সরকার। আগামী ২০২৮ সালে নতুন এই কাঠামো বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই পাঠ্যক্রমে শিক্ষার্থীদের মৌলিক পাঠদক্ষতা, গণিত বিষয়ে দক্ষতা এবং জীবনঘনিষ্ঠ শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করা হবে। গতকাল শনিবার ঢাকার মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শসভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এই নতুন শিক্ষাক্রমের রূপরেখা ও লক্ষ্য আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ তার বক্তব্যে বলেন, ২০২৮ সাল থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই পাঠ্যক্রম সংস্কারের যাত্রা আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। নতুন এই কাঠামোতে কেবল মুখস্থ বিদ্যার ওপর নির্ভর না করে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শেখার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জোর দেওয়া হবে। শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী যাতে একটি পাঠ্যপুস্তক পড়ার পর তা সম্পূর্ণভাবে বুঝতে পারে এবং নিজের ভাষায় তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে পারে, তা নিশ্চিত করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে শেখার প্রতি তীব্র আগ্রহ তৈরি করা এবং তাদের মেধার সঠিক বিকাশ ঘটানোই হবে মূল লক্ষ্য।নতুন এই পাঠ্যক্রমে কেবল বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান নয়, বরং মানবিক গুণাবলি বিকাশের ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, পারিবারিক মূল্যবোধ, নৈতিক শিক্ষা, নাগরিক দায়িত্ববোধ, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সচেতনতাকে এই শিক্ষাক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রতিটি শ্রেণির জন্য নির্দিষ্ট অর্জনযোগ্য লক্ষ্য বা লার্নিং আউটকাম নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের কোন কোন দক্ষতা অর্জিত হওয়া প্রয়োজন, তার একটি সুনির্দিষ্ট এক্সিট প্রোফাইল তৈরি করা হবে। এই কাঠামোর ওপর ভিত্তি করেই ভবিষ্যতে পাঠ্যপুস্তক, শিক্ষকদের জন্য সহায়ক নির্দেশিকা এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রণয়ন করা হবে।আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল প্রযুক্তিকেও শ্রেণিকক্ষে নিয়ে আসার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইন্টারঅ্যাকটিভ ফ্ল্যাট প্যানেল বা ডিজিটাল বোর্ড স্থাপনের কাজ শুরু হবে এবং আগামী তিন বছরের মধ্যে সব শ্রেণিকক্ষে এই প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়া হবে। নতুন পাঠ্যক্রমের সঙ্গে সংগতি রেখে ভিডিও পাঠ এবং ডিজিটাল শিক্ষাসামগ্রী তৈরির কাজও একই সঙ্গে চলমান থাকবে। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে খেলাভিত্তিক এবং বিভিন্ন কার্যক্রমনির্ভর পদ্ধতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যাতে শিশুরা আনন্দঘন পরিবেশে তাদের শিক্ষাজীবন শুরু করতে পারে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীদারের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষাক্রম বাস্তবায়িত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল