প্রিন্ট এর তারিখ : ২২ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬
এআই চ্যাটবট কি শিশুদের মেধা ধ্বংস করছে? নরওয়ের কঠোর সিদ্ধান্তে সতর্ক বিশ্ব
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক ||
শিক্ষাক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং এর দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় নরওয়ে সরকার অত্যন্ত সাহসী ও কঠোর এক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। শিশুদের মৌলিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করা এবং তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে দেশটির প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে জেনারেটিভ বা সৃজনশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহজলভ্যতা শিক্ষার্থীদের শেখার মৌলিক প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত পড়া, লেখা ও গণিতের মতো মৌলিক বিষয়গুলোতে দক্ষতা অর্জন করা, যা কোনো প্রযুক্তির সহায়তায় সংক্ষিপ্ত উপায়ে সম্পন্ন হওয়া উচিত নয়।আগামী আগস্ট মাসের শেষভাগে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই এই নিয়মটি দেশজুড়ে কার্যকর হবে। এই নিষেধাজ্ঞা মূলত ছয় থেকে তেরো বছর বয়সী শিশুদের জন্য কঠোরভাবে প্রযোজ্য করা হয়েছে। তবে বয়সের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কিশোর-কিশোরীদের জন্য নীতিমালার কিছুটা নমনীয়তা রাখা হয়েছে। চৌদ্দ থেকে ষোল বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের সুযোগ পাবে। অন্যদিকে, সতেরো বা তার চেয়ে বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ রাখা হয়নি; বরং তাদের যথাযথ ও দায়িত্বশীল উপায়ে প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে তারা উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এর ইতিবাচক দিকগুলো কাজে লাগাতে পারে।নরওয়ের শ্রেণিকক্ষ থেকে প্রযুক্তির প্রভাব কমানোর উদ্যোগ এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৪ সালে দেশটি স্কুলগুলোতে স্মার্টফোন ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল, যা ব্যাপক সাফল্যের মুখ দেখেছে। ওই পদক্ষেপের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহপাঠীদের উত্ত্যক্ত করার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং সামগ্রিক পরীক্ষার ফলাফলও উন্নত হয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ইতিবাচক পরিবর্তন এবং মনস্তাত্ত্বিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা হ্রাস পাওয়া এই সিদ্ধান্তটির কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। এই ধারাবাহিকতায় নরওয়ে সরকার এখন ষোল বছরের কম বয়সী সব শিশুর জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার একটি বড় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যা চলতি বছরের শেষ নাগাদ পার্লামেন্টে বিল হিসেবে উত্থাপিত হতে পারে।বিশ্বের উন্নত দেশগুলোও এখন শিশুদের প্রযুক্তির আসক্তি নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে। নরওয়ের মতো যুক্তরাষ্ট্রও শিশুদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন চ্যাটবটের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচাতে আইনি উদ্যোগ গ্রহণ করছে। মার্কিন আইনসভার দুই কক্ষে এমন একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে, যা কার্যকর হলে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই করা বাধ্যতামূলক হবে এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে সরাসরি চ্যাটবট সেবা প্রদান নিষিদ্ধ করা হবে। প্রযুক্তির এই লাগাম টেনে ধরার প্রচেষ্টা একদিকে যেমন শিশুদের সুস্থ শৈশব ফিরিয়ে দিচ্ছে, অন্যদিকে তাদের মেধার প্রকৃত বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল