প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬
বন্ধ ৪৪ রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা চালুর উদ্যোগ, সস্তা ঋণ ও গ্যাস নিশ্চয়তা চান ব্যবসায়ীরা
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ৪৪টি বন্ধ ও লোকসানি কারখানা পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় এই কারখানাগুলোতে নতুন বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়। দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ ও অকার্যকর শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন প্রাণ দিতে সরকার নীতিসহায়তার পাশাপাশি কম সুদে ঋণ এবং নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সভায় সরকারি কর্মকর্তারা কারখানাগুলোর বর্তমান অবস্থা, জমির প্রাপ্যতা, অবকাঠামোগত সুবিধা এবং সমুদ্রবন্দরের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। বিনিয়োগকারীরা যাতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব, যৌথ উদ্যোগ, দীর্ঘমেয়াদী ইজারা কিংবা সরাসরি ক্রয়ের মাধ্যমে এগুলোকে কার্যকর করতে পারেন, সেই পথ উন্মুক্ত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, শিল্পকারখানাগুলোতে বিনিয়োগের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে এবং সরকার সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে বদ্ধপরিকর। তার মতে, একটি রাজনৈতিক সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো শিল্পের বিকাশে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা। তিনি জানান, সবকিছু একবারে সমাধান করা সম্ভব না হলেও পর্যায়ক্রমে এই সমস্যাগুলোর একটি স্থায়ী ও টেকসই সুরাহা করা হবে। কারখানাগুলো চালুর ক্ষেত্রে শর্তাবলি সহজ করা এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক সুবিধা দেওয়ার বিষয়েও সভায় ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।বিনিয়োগকারীদের অন্যতম বড় দাবি ছিল সহজশর্তে ঋণের ব্যবস্থা এবং সুদের হার কমানো। বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের আওতায় ঋণের সুদহার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার আবেদন জানান ব্যবসায়ী নেতারা। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান আশ্বস্ত করে জানান, বর্তমানে এই তহবিলে ঋণের সুদহার পাঁচ থেকে ছয় শতাংশের মধ্যে রয়েছে। এরপরও বন্ধ কারখানাগুলোর বিশেষ গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সুদহার আরও এক থেকে দুই শতাংশ কমানোর বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হবে। সভায় মেঘনা গ্রুপ, টিকে গ্রুপ, প্রাণ-আরএফএল, এসিআই, ওয়ালটন, ট্রান্সকম ও নাবিল গ্রুপের মতো দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সেই সঙ্গে মারুবেনি, টয়োটা সুশো, সুমিতোমোর মতো জাপানি বহুজাতিক কোম্পানির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন, যা এই প্রকল্পটির প্রতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের বিষয়টি স্পষ্ট করে।বর্তমানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা প্রায় ১০৭টি কারখানার মধ্যে সিংহভাগই হয় বন্ধ, নয়তো লোকসান গুনছে। ৪৪টি কারখানাকে নতুন করে সচল করার যে মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে বস্ত্র ও পাট, ইস্পাত ও প্রকৌশল, রাসায়নিক শিল্প এবং চিনি ও খাদ্য শিল্প খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী প্রতিনিধি বন্ধ চিনিকলগুলোর অব্যবহৃত জমিতে বিট চাষ করে চিনি উৎপাদনের মতো নতুন ও উদ্ভাবনী প্রস্তাবনাও পেশ করেছেন। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে শিল্প মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে কাজ করছে। সব মিলিয়ে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে কেবল উৎপাদন খাতেরই পুনরুজ্জীবন ঘটবে না, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে এক বিশাল ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল