প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬
লিবিয়ার উপকূলে নারীসহ ১৫ অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার
মোঃ রফিকুল ইসলাম , স্টাফ রিপোর্টার ||
লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে গত এক সপ্তাহে অন্তত ১৫ জন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে, যা অবৈধ অভিবাসন রুটের ভয়াবহতাকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে। নিহতদের মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনী, স্থানীয় নৌবাহিনী এবং হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অভিবাসীদের বহনকারী একটি নৌকা মাঝসমুদ্রে ডুবে যাওয়ার পর এসব মরদেহ ঢেউয়ের তোড়ে উপকূলে ভেসে আসে। উদ্ধার হওয়া এসব মরদেহের অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে যে, নৌকাডুবির ঘটনাটি বেশ কয়েকদিন আগের।শনিবার নৌবাহিনীর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, এই নৌকাডুবি থেকে কোনোমতে প্রাণে বেঁচে যাওয়া দশজন যাত্রী জানিয়েছেন যে, ডুবে যাওয়া ওই নৌকায় প্রায় ৬১ জন আরোহী ছিলেন। মিশর সীমান্তসংলগ্ন তবরুক শহরের উপকূলের বিভিন্ন এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাগরের লবণাক্ত পানি ও দীর্ঘ সময় নিমজ্জিত থাকার ফলে মরদেহগুলো মারাত্মকভাবে পচে গেছে, যা তাদের শনাক্তকরণে জটিলতা সৃষ্টি করছে। সমুদ্রের বর্তমান অবস্থার কারণে নিখোঁজ থাকা বাকি আরোহীদের মরদেহও ভেসে আসার প্রবল আশঙ্কা করছেন তারা। তবরুক রেড ক্রিসেন্টের প্রকাশিত হৃদয়বিদারক ছবিতে দেখা গেছে, স্বেচ্ছাসেবীরা বিশেষ সুরক্ষা পোশাক পরে পাথুরে উপকূলে পড়ে থাকা মরদেহগুলো উদ্ধার করে প্লাস্টিকের ব্যাগে সংরক্ষণ করছেন।২০১১ সালে ন্যাটো-সমর্থিত বিদ্রোহের মাধ্যমে মুয়াম্মার গাদ্দাফি সরকারের পতনের পর থেকেই লিবিয়া ইউরোপগামী অভিবাসীদের জন্য একটি প্রধান ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দারিদ্র্যের কশাঘাতে পিষ্ট মানুষগুলো উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপের দেশগুলোতে পাড়ি জমাতে লিবিয়াকে বেছে নিচ্ছে। মরুভূমির বিপদসংকুল পথ ও উত্তাল ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন। চোরাকারবারিদের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে চরম অনিশ্চিত এই যাত্রায় নামা অভিবাসীদের জন্য ভূমধ্যসাগর এখন মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে।এদিকে, এই বিপর্যয়ের পাশাপাশি রাজধানী ত্রিপোলিভিত্তিক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন জরুরি চিকিৎসা ও সহায়তা কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আরও একটি উদ্বেগের খবর পাওয়া গেছে। খুমস শহরের উপকূলে আরেকটি নৌকাডুবির ঘটনায় ১৩ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। নৌকাটি মাঝসমুদ্রে হঠাৎ উল্টে গেলে যাত্রীরা সমুদ্রে নিক্ষিপ্ত হন। লিবীয় উপকূলে সাম্প্রতিক এই একের পর এক নৌকাডুবির ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছে এবং অভিবাসীদের এই অনিরাপদ ও বিপজ্জনক যাত্রার লাগাম টেনে ধরার প্রয়োজনীয়তাকে পুনরায় স্পষ্ট করে তুলেছে।সূত্র: রয়টার্স
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল