প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬
গজলডোবা ব্যারাজ খুলে দিল ভারত, উজানের ঢলে দ্রুত বাড়ছে তিস্তার পানি
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের সকল জলকপাট খুলে দেওয়ায় উত্তরের তিস্তা নদীতে পানির প্রবাহ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আকস্মিক এই পানি বৃদ্ধির ফলে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা পয়েন্টে নদীর পানি এখন বিপৎসীমার অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থান করছে, যা স্থানীয় জনপদকে এক ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কার দিকে ঠেলে দিয়েছে। শনিবার সকাল থেকে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার মাত্র পাঁচ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে দেখা গেছে। যেকোনো মুহূর্তে এই সীমা অতিক্রম করার প্রবল সম্ভাবনা থাকায় নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভারতের উজানে টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণের ফলে বিপুল পরিমাণ পানি প্রবল বেগে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ধেয়ে আসছে, যা নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতিকে বদলে দিয়েছে।গত কয়েকদিন ধরে তিস্তার পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও শনিবার সকাল থেকে পুনরায় পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করে। দ্রুতগতিতে পানি বাড়ার কারণে নদীর পাড়ের নিম্নাঞ্চলগুলো যেকোনো সময় প্লাবিত হতে পারে এবং হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলার ভেতর দিয়ে তিস্তা নদী প্রবাহিত হওয়ায় সামান্য পানির বৃদ্ধিও স্থানীয়দের জন্য বড় ধরনের দুর্যোগ বয়ে আনে। নদীর তীরের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, যে হারে পানি ধেয়ে আসছে, তাতে দ্রুত নিচু এলাকাগুলো তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গড্ডিমারী এলাকার স্থানীয়রা বলছেন, পানি যে গতিতে বাড়ছে তা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি উদ্বেগজনক, যার ফলে তারা এখন চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন পার করছেন।তিস্তা ব্যারাজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ব্যারাজের ৪৪টি গেটই বর্তমানে খুলে রাখা হয়েছে যাতে পানির চাপ কিছুটা সামলানো যায়। ডালিয়া পয়েন্টের নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, পানির প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছেন। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা নদী তীরবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। ভারতের দিক থেকে আসা পানির ঢল অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখার পাশাপাশি মাইকিং এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে মানুষকে উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হচ্ছে, যাতে বড় ধরনের জানমালের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল