প্রিন্ট এর তারিখ : ২০ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে ১৭ চুক্তি ও সমঝোতার সম্ভাবনা
মোঃ রফিকুল ইসলাম , স্টাফ রিপোর্টার ||
আগামী ২৩ থেকে ২৬ জুন চীনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক রাষ্ট্রীয় সফর। এই সফরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রতিরক্ষাসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ খাতে ১৫ থেকে ১৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। আজ শনিবার (২০ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে ১৫ থেকে ১৭টি সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি সই হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে, যার মধ্যে মূলত ১৩টি সমঝোতা স্মারক, দুইটি চুক্তি, একটি অ্যাকশন প্ল্যান এবং একটি প্রটোকল সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে চীনের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কূটনৈতিক বৈঠকে এই সফরের বিস্তারিত কর্মসূচি ও দ্বিপাক্ষিক আলোচ্যসূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বেইজিংয়ে অনুষ্ঠেয় দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মেগা ও কৌশলগত অবকাঠামো খাতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে চীনের ঋণ সহায়তায় প্রস্তাবিত দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ, উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক ভাগ্যবদলে তিস্তা নদীর পানি ব্যবস্থাপনা ও সামগ্রিক উন্নয়ন সংক্রান্ত ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ এবং যমুনা নদীতে নতুন আরেকটি সেতু নির্মাণের বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি, সম্প্রতি একনেকে অনুমোদিত হওয়া ৪ হাজার কোটি টাকার বিশেষ চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্প এবং বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) নির্মাণে চীনা বিনিয়োগ ও উন্নত প্রযুক্তি সহায়তার বিষয়টি বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর বাইরেও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি হস্তান্তর, দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), দুই দেশের নিজস্ব মুদ্রায় লেনদেনের জন্য ‘মুন্য বিনিময় চুক্তি’ এবং বাংলাদেশে একটি স্বতন্ত্র চীনা ব্যাংক স্থাপনের প্রস্তাবও আলোচনার টেবিলে স্থান পেতে যাচ্ছে।চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর হতে যাচ্ছে। তবে চীন যাওয়ার আগে তিনি আগামী ২১ ও ২২ জুন দুই দিনের জন্য মালয়েশিয়া সফর করবেন এবং ২৩ জুন কুয়ালালামপুর থেকেই সরাসরি বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সফর শেষে ২৬ জুন তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের পর প্রথম সফরে সরাসরি বেইজিং না গিয়ে প্রথমে মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়ার পেছনে গভীর কৌশলগত কারণ রয়েছে। মূলত আঞ্চলিক রাজনীতিতে ‘ভারত-চীন’ বিতর্ক এড়ানো এবং সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট ভারসাম্যের বার্তা দিতেই এই কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তবে ব্যাপক অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত চুক্তির কারণে স্বাভাবিকভাবেই চীন সফরটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। অন্যদিকে মালয়েশিয়া সফরে বাংলাদেশের মূল অগ্রাধিকার থাকছে থমকে থাকা ‘শ্রমবাজার’, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে দ্রুত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশি জনশক্তি পাঠানোর পথ উন্মুক্ত করতে এই সফরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা।বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন আগেই প্রধানমন্ত্রীর এই আসন্ন সফরকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে বেইজিং সবসময় ঢাকার পাশে থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা বজায় রাখবে। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক ইতিবাচক আলোচনা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি চীন সরকারের আমন্ত্রণে দফায় দফায় চীন সফর করেছেন বিএনপি-র বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা। বিশ্লেষকদের চূড়ান্ত ধারণা, এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক কেবল নতুন উচ্চতাতেই পৌঁছাবে না, বরং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষায়ও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল