প্রিন্ট এর তারিখ : ২০ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬
তিস্তা বিপৎসীমার দ্বারপ্রান্তে: পানি নিয়ন্ত্রণে খুলে দেওয়া হলো ৪৪ গেট, বাড়ছে বন্যার শঙ্কা
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বর্ষণে দেশের উত্তরাঞ্চলে তিস্তা নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও নদীর তীব্র পানির চাপ সামাল দিতে নীলফামারীর ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজের সবকটি (৪৪টি) জলকপাট (স্লুইস গেট) একযোগে খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আকস্মিক এই পানি বৃদ্ধির ফলে নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলগুলো প্লাবিত হতে শুরু করেছে, যার ফলে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন হাজারো নদীরপাড়ের মানুষ।পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের উত্তর অংশে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। উজানের সেই বিপুল পরিমাণ পানি তিস্তা নদী হয়ে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রবেশ করায় ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, পানির গতিবেগ এভাবে বাড়তে থাকলে যেকোনো মুহূর্তে তা বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ব্যারাজের সব গেট খুলে দেওয়ায় ডালিয়া, ডিমলা, জলঢাকা এবং লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম ও কালীগঞ্জ উপজেলার তিস্তা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চল এবং নিম্নাঞ্চলগুলোতে হু হু করে পানি ঢুকছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু ঘরবাড়ি ও আমনের বীজতলা তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরের বাসিন্দারা তাদের গবাদিপশু ও জরুরি আসবাবপত্র নিয়ে নিরাপদ স্থানে বা উঁচু বাঁধে আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন। পাশাপাশি নদীর তীব্র স্রোতে কিছু কিছু এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, উজানের ঢলের কারণে তিস্তার পানি দ্রুত বাড়ছে। ব্যারাজ ও তীরবর্তী বাঁধগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছি এবং সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। ৪৪টি গেটই খুলে দিয়ে পানির চাপ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।তিস্তা নদীর ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমের শুরুতে ভারতের গজলডোবা ব্যারাজ থেকে অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেওয়ায় বাংলাদেশের অংশে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় প্রশাসন বন্যা মোকাবিলায় নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি শুকনো খাবার ও জরুরি ত্রাণ সহায়তার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে সার্বক্ষণিক সর্তক থাকার এবং চরাঞ্চলের মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল