প্রিন্ট এর তারিখ : ২০ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬
আগামী ছয় মাসে চালু হচ্ছে পাঁচ বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
দেশের শিশুস্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়নে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। আগামী ছয় মাসের মধ্যে খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ এবং কুমিল্লা জেলায় ২০০ শয্যাবিশিষ্ট অত্যাধুনিক ও বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালুর পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। সরকারি এই উদ্যোগের আওতায় এরই মধ্যে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের হাসপাতাল দুটি আগস্ট মাসের শুরুর দিকেই চিকিৎসার জন্য উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি বিশেষায়িত হাসপাতালেই আধুনিক চিকিৎসার সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এর মধ্যে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ সুবিধা, কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে ভবন সম্প্রসারণের মতো অবকাঠামোগত পরিকল্পনাও যুক্ত করা হয়েছে। হাসপাতালগুলোকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও অত্যাধুনিক চিকিৎসাসামগ্রী ক্রয়ের দরপত্র প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ছয় মাসের মধ্যেই এই পাঁচটি হাসপাতাল পর্যায়ক্রমে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করবে।এসব হাসপাতালে নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে বিপুল সংখ্যক জনবল প্রয়োজন। প্রতিটি হাসপাতালের জন্য এক হাজার ৪৭৫ জন করে জনবল নিয়োগের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সম্প্রতি খুলনা, বরিশাল ও কুমিল্লায় নির্মিত হাসপাতাল ভবনগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন এবং দ্রুততম সময়ে সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দিয়েছেন। মন্ত্রী জানিয়েছেন যে, নবজাতকদের ভেন্টিলেটর, সিটি স্ক্যান, এক্স-রে, কার্ডিয়াক মনিটর ও ফটোথেরাপি মেশিনসহ অত্যাধুনিক সব চিকিৎসা সরঞ্জাম জুলাই মাসের মধ্যেই সরবরাহ করা হবে। বিশেষ করে ১ আগস্ট বরিশাল শিশু হাসপাতালটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে।এর আগে গত মে মাসে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দেশের বিভিন্ন বিভাগে দীর্ঘ সময় ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা শিশু হাসপাতালগুলো দ্রুত চালু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর সেই ঘোষণার পর খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু করতে স্বাস্থ্য বিভাগ ও গণপূর্ত অধিদপ্তর যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, দীর্ঘ ছয় বছর ধরে অবকাঠামো সম্পন্ন থাকার পরও চালু না হওয়া রংপুর শিশু হাসপাতালটির কার্যক্রমও এখন আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এরই মধ্যে হাসপাতালটির অবকাঠামো পরিদর্শন করে দ্রুত চালুর বিষয়ে ইতিবাচক মত দিয়েছেন।অন্যদিকে কুমিল্লা ও রাজশাহী অঞ্চলের শিশু হাসপাতালগুলো চালুর প্রক্রিয়াও জোরদার করা হয়েছে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পক্ষ থেকে জনবল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির চাহিদা সম্বলিত তালিকা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাজশাহী শিশু হাসপাতালের কার্যক্রম প্রথম ধাপে আউটডোর সেবার মাধ্যমে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পরবর্তী অর্থবছরে ধাপে ধাপে বাকি বিশেষায়িত সেবাগুলো চালু করা হবে। দেশের শিশুদের জন্য সুলভ ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্বাস্থ্য খাতের ওপর চাপ কমবে এবং সাধারণ মানুষ বিশেষায়িত শিশু চিকিৎসায় নতুন গতির আশা দেখছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল