প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬
ইরাকে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার প্রস্তুতিতে ইরানের গোপন সেল
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
প্রচলিত মিলিশিয়া নেটওয়ার্কগুলোর ওপর নজরদারি এড়াতে এবং নিজেদের সামরিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ গোপন রাখতে ইরাকের ভূখণ্ডকে ব্যবহার করে নতুন এক রণকৌশল গ্রহণ করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে আইআরজিসি এই নতুন গোপন সেলগুলো তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ইরাকের আটটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সামরিক ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।প্রতিবেদনের বিশদ তথ্য অনুযায়ী, আইআরজিসি ইরাকের অভ্যন্তরে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল তিন থেকে চারটি পৃথক গোপন সেল গঠন করেছে। অত্যন্ত নিখুঁত ও কঠোর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাছাই করা প্রায় ১০ জন করে কট্টর শিয়া মুসলিম যোদ্ধাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে প্রতিটি সেলে। এই বিশেষ দলগুলো গত ২০ এপ্রিল থেকে ১৭ মের মধ্যে ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বসরা ও সামাওয়ার পার্শ্ববর্তী দুর্গম মরুভূমি এলাকা থেকে কুয়েত, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে অন্তত সাতটি সফল ড্রোন হামলা চালিয়েছে।নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গোপন সেলগুলোর সদস্যদের একটি বড় অংশ আগে থেকেই ইরাকের স্থানীয় বিভিন্ন সক্রিয় প্রতিরোধ গোষ্ঠী বা মিলিশিয়া দলের সাথে যুক্ত ছিল। তবে বর্তমান বিশেষ যুদ্ধকালীন প্রেক্ষাপটে তারা তাদের পুরনো আঞ্চলিক কমান্ড কাঠামোর কোনো নির্দেশ বা চেইন অব কমান্ড মানছে না। এই যোদ্ধারা সরাসরি তেহরানের আইআরজিসি হাই কমান্ডের নির্দেশে কাজ করছে এবং সরাসরি তাদের কাছেই সব গোপন প্রতিবেদন জমা দিচ্ছে। ইরাকের সামরিক ও গোয়েন্দা বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং স্থানীয় মিলিশিয়া কমান্ডারদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, এই নতুন দলগুলো প্রচলিত গোষ্ঠীগুলোর চেয়ে অনেক বেশি নিবিড়, প্রশিক্ষিত এবং সুশৃঙ্খলভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।তেহরানের এই নতুন কৌশল গ্রহণের নেপথ্যে প্রধান কারণ হলো বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি। আন্তর্জাতিক নানামুখী নিষেধাজ্ঞা ও অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে ইরানের নিজস্ব সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা কিছুটা চাপের মুখে রয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর একক প্রভাব ও শক্তি আগের তুলনায় কিছুটা হ্রাস পাওয়ায় তেহরান এখন নতুন ও ভিন্ন উপায়ে মার্কিন বাহিনীর ওপর মনস্তাত্ত্বিক ও সামরিক চাপ প্রয়োগ করতে চাইছে। শিয়া-অধ্যুষিত ইরাকে এমনিতেই অনেক মিলিশিয়া গোষ্ঠী রয়েছে, যাদের সাথে তেহরানের দীর্ঘদিনের গভীর সুসম্পর্ক বিদ্যমান। কিন্তু বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক গোয়েন্দা নজরদারির চাপে ইরান এখন আর সেইসব চেনা ও প্রচলিত মিলিশিয়াদের ওপর পুরোপুরি ভরসা করতে পারছে না। ফলে নিজেদের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে এই নতুন গোপন সেলগুলো পরিচালনা করছে ইরান, যা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল