প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬
ইরানের বন্দরগামী নৌযানে অবরোধ তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র
মোঃ রফিকুল ইসলাম , স্টাফ রিপোর্টার ||
দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন ও অস্থিরতা কাটিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন সম্পর্কের দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরানগামী এবং ইরান থেকে ছেড়ে আসা সব ধরনের বাণিজ্যিক নৌযানের ওপর থেকে নিজেদের আরোপিত নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কেন্দ্রীয় কমান্ড। গত বৃহস্পতিবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য একটি অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক পোস্টে জানিয়েছে, এখন থেকে আরব উপসাগর এবং ওমান উপসাগর সংলগ্ন ইরানের বন্দরগুলোতে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর চলাচলে মার্কিন নৌবাহিনী আর কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না। তবে অবরোধ প্রত্যাহার করা হলেও ওই অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর টহল ও উপস্থিতি আগের মতোই বহাল থাকবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা চুক্তির শর্তগুলো উভয় পক্ষ সঠিকভাবে মেনে চলছে কি না এবং চুক্তির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার উদ্দেশ্যেই এই সতর্কতামূলক উপস্থিতি বজায় রাখা হবে।উল্লেখ্য যে, গত বৃহস্পতিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডিজিটাল পদ্ধতিতে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে সব ধরণের সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটানো, লেবানন পরিস্থিতির উত্তরণ, হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করা এবং ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহার করা। এই চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের উত্তপ্ত পরিস্থিতির অবসান ঘটানোর ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক অর্জিত হলো।যদিও বর্তমান অবরোধ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে, তবে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের পূর্ণাঙ্গ স্থায়িত্বের জন্য এখনো অনেকটা পথ বাকি। চূড়ান্ত একটি বিস্তৃত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে উভয় পক্ষ এখন ৬০ দিনের একটি নিবিড় আলোচনা প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করেছে। এই সময়ের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অন্যান্য অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যিক নৌ-চলাচলের ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অপরিসীম। তাই এই অঞ্চলে অবরোধ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তটিকে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরণের স্বস্তির বার্তা হিসেবেই দেখছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।সূত্র: আল-জাজিরা
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল