প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬
কৃষকদল নেতা হত্যায় বিক্ষোভ, জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবি
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি বাদল মোড়লকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে এবং জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টা থেকে দুপুর বারোটা পর্যন্ত ওই এলাকায় অর্ধবেলা হরতাল পালন করেছে স্থানীয় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুরো ইউনিয়নজুড়ে থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। হরতালের প্রভাবে সকাল থেকেই অচল হয়ে পড়ে জনজীবন; অভ্যন্তরীণ রুটে সব ধরণের যান চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা।এলাকাবাসীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হরতাল চলাকালীন সিএনজি চালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক, ইঞ্জিনচালিত ভ্যান, মোটরসাইকেল এমনকি সাইকেল নিয়ে বের হওয়া সাধারণ পথচারীদেরও নানা বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হয়। ইউনিয়নটির গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র আড়পাড়া বাজারের সব দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সকাল থেকেই বন্ধ রাখা হয়। আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন মোড়ে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে এবং সড়কে বাঁশ ও চেয়ার ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিচার দাবি করে তারা বিভিন্ন স্থানে মিছিল করেন এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় না আসা পর্যন্ত আন্দোলনের হুমকি দেন।ঘটনার সূত্রপাত গত ৯ জুন ২০২৬ তারিখে। ওইদিন রাতে আড়পাড়া থেকে ফকিরহাট যাওয়ার পথে অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন কৃষক দলের নেতা বাদল মোড়ল এবং ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ মোড়ল। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই বাদল মোড়লের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত আব্দুল্লাহ মোড়লকে প্রথমে ফকিরহাট ও পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় স্থানান্তর করা হয়। এ ঘটনার দুই দিন পর অর্থাৎ ১১ জুন নিহত বাদল মোড়লের ছোট ভাই হাফিজুর রহমান মোড়ল বাদী হয়ে ফকিরহাট মডেল থানায় ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ পার হলেও মামলার মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। বাগেরহাট জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আসাফুউদ্দৌলা জুয়েল হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পুলিশ অবিলম্বে মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন।অন্যদিকে, প্রশাসনিক তৎপরতার বিষয়ে জানতে চাইলে বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সামসুল আরেফিন জানান, ইতিমধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, হরতাল কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের পর রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি অভিযোগও সামনে এসেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল ওদুদ দাবি করেছেন, প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার লক্ষ্যে বিএনপি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জামায়াতের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকৃত দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল