প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬
জাতিসংঘের কালো তালিকায় আবারও ইসরাইলি বাহিনী
মোঃ রফিকুল ইসলাম , স্টাফ রিপোর্টার ||
বিশ্বজুড়ে সশস্ত্র সংঘাতের ময়দানে শিশুদের ওপর ঘটে চলা ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি টানা তৃতীয়বারের মতো ইসরাইলি সশস্ত্র ও নিরাপত্তা বাহিনীকে তাদের কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। মূলত সশস্ত্র সংঘাতে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়া এবং তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হলো। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ২০২৫ সালটি শিশুদের জন্য একটি অত্যন্ত সংকটময় বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে শিশুদের ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ফেলেছে।প্রতিবেদনটির তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে বিশ্বজুড়ে শিশুদের বিরুদ্ধে ৩৮ হাজার ৫৫৮টি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করেছে জাতিসংঘ। ভুক্তভোগী শিশুদের মধ্যে ১৫ হাজার ৪৯৩ জন ছেলে, ৭ হাজার ৯৯০ জন মেয়ে এবং ৬৯১ জনের লিঙ্গ পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এই তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, শিশু ও সশস্ত্র সংঘাত সংক্রান্ত ম্যান্ডেট চালুর গত ত্রিশ বছরের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি। জাতিসংঘের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে জানিয়েছেন যে, সরকারি বাহিনীর সদস্যদের শিশুদের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করার ঘটনা এই প্রথম। তালিকায় ইসরাইল সরকারকে শীর্ষে রাখা হয়েছে এবং এর পরপরই রাশিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শিশুদের ওপর হওয়া এই নৃশংসতার সবচেয়ে বড় কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে ইসরাইল ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড। সেখানে কেবল এক বছরে ১২ হাজার ৪৪৫টি গুরুতর লঙ্ঘনের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, নাইজেরিয়া, মিয়ানমার এবং সোমালিয়ার মতো দেশগুলোতেও শিশুদের ওপর ব্যাপক হারে নির্যাতন চালানো হয়েছে। সামগ্রিক চিত্রে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় শিশু নিহত হওয়ার ঘটনা ৩৪ শতাংশ এবং আহত হওয়ার হার ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালে প্রায় ৬ হাজার ২৬৬ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে, ৭ হাজার ৯৫৮ জন গুরুতর আহত হয়েছে, এবং ৮ হাজার ৩২২ জন শিশু প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৪ হাজার ৫৭৩ জন শিশুকে অপহরণের মতো জঘন্য ঘটনাও ঘটেছে।জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই পরিস্থিতির ভয়াবহতায় গভীর মর্মাহত ও স্তম্ভিত। তিনি বিশেষ করে গাজা উপত্যকায় চলমান সংঘাত এবং পূর্ব জেরুজালেমসহ পশ্চিম তীরে শিশুদের ওপর বেড়ে চলা সহিংসতার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মহাসচিবের মতে, এই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি মানবসভ্যতার জন্য একটি বড় কলঙ্ক। শিশুরা যেহেতু সংঘাতের সবচেয়ে অসহায় শিকার, তাই তাদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত এবং সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গুতেরেস মনে করেন, কোনো অজুহাত বা রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই শিশুদের ওপর এমন নিষ্ঠুরতা চলতে দেওয়া যায় না। যুদ্ধের ময়দানে শিশুদের রক্ষা করা এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করা এখন বিশ্ববাসীর কাছে সবচেয়ে বড় নৈতিক দায়বদ্ধতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল