প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকারের নতুন মহাপরিকল্পনা
ইয়াসরির মাহবুব, স্টাফ রিপোর্টার ||
দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) সৃজনশীল অর্থনীতির অবদান ১ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং নতুন পাঁচ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশব্যাপী আধুনিক ‘ক্রিয়েটিভ হাব’ গড়ে তোলা এবং ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ উদ্যোগের মাধ্যমে আঞ্চলিক পণ্যকে বৈশ্বিক বাজারে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে এ পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরা হয়।সৃজনশীল অর্থনীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় আনতে প্রস্তাবিত বাজেটে প্রাথমিকভাবে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে আরও ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। এই অর্থ সৃজনশীল খাতের উদ্যোক্তাদের অর্থায়নে ব্যবহার করা হবে বলে সরকার জানিয়েছে।জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের সৃজনশীল শিল্পখাতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে মূলধারার অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করাই সরকারের লক্ষ্য। তাঁর ভাষ্য, এই খাত মানবসম্পদ উন্নয়ন, জাতীয় ব্র্যান্ডিং এবং ভবিষ্যতের কল্যাণমুখী বিনিয়োগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।গ্রামীণ ঐতিহ্যকে বৈশ্বিক ব্র্যান্ডে রূপ দিতে ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী পণ্য চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে তাঁত ও বয়নশিল্প, মৃৎশিল্প, শীতলপাটি ও শতরঞ্জি, টেরাকোটা ও কাঠের পুতুল, হাতে তৈরি গহনা এবং অন্যান্য আঞ্চলিক বিশেষায়িত পণ্য। এসব পণ্যের মানোন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে সরকার ‘ন্যাশনাল পুল অব ডিজাইনার্স’ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) ডিজাইন সেন্টারকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আধুনিকায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে আঞ্চলিক ‘ক্রিয়েটিভ হাব’কে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার। এসব হাব একযোগে সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। প্রতিটি হাবে সাংস্কৃতিক ভেন্যু, লাইব্রেরি ও বইয়ের দোকান, সিনেপ্লেক্স, ক্যাফেটেরিয়া এবং ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ কর্মসূচির আওতায় উৎপাদিত পণ্যের স্থায়ী প্রদর্শনী ও বিপণনকেন্দ্র থাকবে।এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ১০ বছর মেয়াদি বিনিয়োগ কৌশল ও সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে কয়েকটি স্থানও প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পূর্বাচলে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে ১৬০ একর জমির ওপর একটি কেন্দ্রীয় ক্রিয়েটিভ হাব স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া ঢাকার কারওয়ান বাজার, তেজগাঁওয়ের সার্ভেয়ার জেনারেলের কার্যালয়-সংলগ্ন অব্যবহৃত জমি এবং বিসিকের খালি শিল্প প্লটেও এ ধরনের হাব স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। রাজধানীর বাইরে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে, এমনকি শিশু একাডেমি ও শিল্পকলা একাডেমির প্রাঙ্গণেও অনুরূপ সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে দেশের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইতিমধ্যে ‘ইনোভেশন হাব’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় ও স্নাতক পর্যায়ের কলেজগুলোতেও এ উদ্যোগ সম্প্রসারণে একটি রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হচ্ছে।বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ, উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।সরকারের আশা, ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ কর্মসূচি, ক্রিয়েটিভ হাব, ইনোভেশন হাব এবং ডিজাইন সহায়তা উদ্যোগের সমন্বিত বাস্তবায়ন অর্থনৈতিক সুযোগের বিস্তার ঘটাবে এবং দেশের জনমিতিক লভ্যাংশকে টেকসই সমৃদ্ধিতে রূপান্তর করবে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল