প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসে ভারতে সাময়িক বন্ধ টেলিগ্রাম
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক ||
ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ব্যাপক জালিয়াতির ঘটনা রুখতে জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দোহাই দিয়ে সরকার এই পদক্ষেপ নিলেও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা এটিকে একটি অকার্যকর ও সাময়িক সমাধান বলে তীব্র সমালোচনা করছেন। তাদের মতে, দুর্নীতি বা প্রশ্ন ফাঁসের মতো প্রাতিষ্ঠানিক অপরাধের মূল কারণগুলো চিহ্নিত না করে সাধারণ ব্যবহারকারীদের ওপর এ ধরনের বিধিনিষেধ চাপিয়ে দেওয়া কোনো টেকসই সমাধান হতে পারে না।সম্প্রতি ভারতের ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল বাতিল ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে। সরকারের ভাষ্যমতে, পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র এবং তার উত্তরপত্র টেলিগ্রামের বিভিন্ন চ্যানেলের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিতব্য পুনর্বাছাই পরীক্ষাটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আগামী ২২ জুন পর্যন্ত এই অ্যাপটি পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ভারতে টেলিগ্রামের প্রায় আট কোটি ৪০ লাখ ব্যবহারকারী রয়েছে, যা অ্যাপটির জন্য বিশ্বের অন্যতম বড় বাজার। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করে দেওয়াকে অনেকেই হাস্যকর ও দুর্বল অজুহাত হিসেবে দেখছেন।এই প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনাটি কেবল একটি প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে প্রশাসনিক চরম ব্যর্থতা। দেশটির বিরোধী দলীয় নেতারা এই ভর্তি প্রক্রিয়াকে পুরোপুরি দুর্নীতিগ্রস্ত ও ভেঙে পড়া ব্যবস্থা বলে অভিহিত করেছেন। বিশেষ করে এবারের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় লাখ লাখ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিলেন, যারা দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতির পেছনে শ্রম ও অর্থ ব্যয় করেছেন। পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য চালু করা ডিজিটাল পদ্ধতির স্বচ্ছতা নিয়েও উঠেছে বিশাল প্রশ্ন। বিতর্কিত এক কোম্পানিকে খাতা দেখার চুক্তির দায়িত্ব দেওয়া এবং পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের পাওয়া ফলাফলে বড় ধরনের গড়মিল পাওয়ার বিষয়টি পুরো পরীক্ষাব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এমনকি এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন যে, পরীক্ষার নম্বর পরিবর্তনের মতো স্পর্শকাতর নিরাপত্তা ত্রুটিও সিস্টেমের ভেতরে বিদ্যমান ছিল।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে শিক্ষার্থীরা তাদের ক্ষোভ ও অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেছেন। বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রমের পর যখন দেখা যায় খাতা মূল্যায়নই ঠিকমতো হয়নি, তখন তাদের মানসিক ও আর্থিক বিপর্যয় চরম আকার ধারণ করে। ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের মতো সংগঠনগুলো স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে যে, টেলিগ্রাম বন্ধ করা কোনো যৌক্তিক সমাধান নয়। এটি কেবল একটি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া, যা আসল অপরাধীদের ধরার চেয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিই বাড়াচ্ছে।প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য দায়ী শক্তিশালী সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় না এনে প্রযুক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করার এই প্রবণতা ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের আস্থার সংকট তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, পুনরায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পরীক্ষায় কর্তৃপক্ষ কতটা স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পারে এবং এই জালিয়াতির পেছনে থাকা প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করতে পারে কি না।তথ্যসূত্র: আল জাজিরা।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল