প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
আদাবরে বিকাশ এজেন্ট হামলার ঘটনায় ‘কব্জি কাটা’ গ্রুপের ৫ সদস্য আটক
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
রাজধানীর আদাবর এলাকায় বিকাশ এজেন্টকে কুপিয়ে টাকা ছিনতাই এবং পরবর্তীতে কর্তব্যরত পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ত্রাস সৃষ্টিকারী ‘কব্জি কাটা’ গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড আবু সাঈদসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন। বুধবার ভোরে র্যাব-২ এর একটি দল মোহাম্মদপুর ও পীরেরবাগ এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। গ্রেফতার হওয়া অন্যদের মধ্যে রয়েছেন রাশেদ খন্দকার, মো. লিটন, মো. তৌসিফ এবং মো. তরিকুল ইসলাম। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাবের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার সকালে, যখন আদাবরের একটি বিকাশ দোকানের সামনে শফিকুল ইসলাম নামের এক এজেন্টকে চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তিন লাখ টাকা এবং মোবাইল ফোন ছিনতাই করে নিয়ে যায় এই সন্ত্রাসী চক্রের সদস্যরা। দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ভুক্তভোগী দোকান খোলার পরপরই চার-পাঁচজন যুবক অস্ত্রহাতে ঢুকে পড়ে এবং কিছু বুঝে ওঠার আগেই শফিকুলের ডান হাতে কোপ দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ঢাকা উদ্যান এলাকার একটি আস্তানায় ছিনতাইকারীদের অবস্থান শনাক্ত করে। বিকেলের দিকে আদাবর থানা পুলিশ সেখানে অভিযান চালালে অপরাধীরা সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের ওপর দেশীয় অস্ত্র ও চাপাতি নিয়ে চড়াও হয়। হামলায় আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর এবং উপ-পরিদর্শক তরুণ কুমার গুরুতর জখম হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালালে চোরা রুবেল ও কানা আমির নামের দুজন গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থল থেকেই তাদের আটক করে হাসপাতালে পাঠানোর পাশাপাশি কাশেম ও জয় নামের আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আদাবর এলাকাটি এখন এই গ্যাংয়ের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। এলাকায় ছিনতাই, লুটপাট ও চাঁদাবাজি অনেকটা নিয়মিত ঘটনায় রূপ নিয়েছে। ‘কব্জি কাটা’ গ্রুপের কুখ্যাত নেতা আনোয়ার ওরফে পানি আনোয়ার বর্তমানে কারাগারে থাকলেও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আবু সাঈদ জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও পুরো চক্রটিকে সক্রিয় করে তুলেছে। স্থানীয়দের মতে, বর্তমানে গ্রুপটির ১৫ থেকে ২০ জন সদস্য শ্যামলী হাউজিং, তুরাগ হাউজিং, ঢাকা উদ্যান এবং নবীনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, গত কয়েকদিন ধরেই আদাবরের ১০ নম্বর বালুর মাঠ ও আশেপাশের গ্যারেজগুলোতে ধারাবাহিকভাবে লুটপাটের ঘটনা ঘটছে। অপরাধীদের এই বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে জনমনে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, এই গ্যাংয়ের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে এবং অচিরেই তাদের আইনের আওতায় এনে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে। অপরাধ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত পুলিশের বিশেষ নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বস্ত করা হয়েছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল