প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
সীমান্ত উত্তেজনায় ৬ মাসের শিশুও পুশইনের শিকার
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্ত এলাকায় এক গভীর মানবিক বিপর্যয় ও চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গত তিন দিন ধরে রৌমারীর গয়টাপাড়া সীমান্তের জিরো লাইনে ছয় মাস বয়সী এক শিশুসহ মোট নয়জন মানুষ অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। প্রচণ্ড রোদ ও ঝড়বৃষ্টির মাঝে খোলা আকাশের নিচে সামান্য প্লাস্টিকের ছাউনি টাঙিয়ে তাদের রাত কাটাতে হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা ও বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বাধার মুখে তারা সীমান্তের এই শূন্যরেখা সংলগ্ন এলাকায় আটকা পড়েছেন।সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই নয়জনের দলের মধ্যে থাকা দম্পতির কোলে রয়েছে ছয় মাস বয়সী দুধের শিশুসহ আরও এক ছোট সন্তান। তীব্র গরম আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তাদের জীবন এখন বিপন্ন। সেখানে পর্যাপ্ত খাবার, বিশুদ্ধ পানি, গোসল কিংবা পয়ঃনিষ্কাশনের কোনো ন্যূনতম ব্যবস্থা নেই। খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করা এই মানুষগুলোর, বিশেষ করে শিশুদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে এলাকাবাসী চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সীমান্তের একদিকে ভারতের কাঁটাতারের বেড়া ও বিএসএফ ক্যাম্প এবং অন্যদিকে বাংলাদেশ সীমান্ত। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কড়া নজরদারির কারণে এই মানুষগুলো যেন এক অদৃশ্য খাঁচায় আটকা পড়েছেন, কোনো দিকেই তারা নড়াচড়া করতে পারছেন না।স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, একটি ছয় মাস বয়সী শিশুকে এভাবে খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টির মধ্যে ফেলে রাখা কোনোভাবেই বিবেকবান সমাজ মেনে নিতে পারে না। তিনি দ্রুত মানবিক দিক বিবেচনায় এই সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। সীমান্তে দায়িত্বরত গণমাধ্যমকর্মী ওয়াহিদুজ্জামান তুহিন ঘটনাটিকে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, সভ্য সমাজে শিশুদের এ ধরনের করুণ পরিস্থিতির শিকার হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।গত রোববার সকালে গয়টাপাড়া ও ইজলামারী সীমান্ত দিয়ে এই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের বাধার মুখে তারা শেষ পর্যন্ত সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান নিতে বাধ্য হন। ঘটনার পরদিন বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে উচ্চপর্যায়ের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও দীর্ঘ তিন দিনেও কোনো কার্যকরী সমাধান মেলেনি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি ওই এলাকায় নিয়মিত টহল ও নজরদারি জোরদার করেছে। গয়টাপাড়া বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তবে আটকা পড়া এই মানুষগুলোর বিষয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল