প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
এক বছরে রেমিট্যান্স ৩৪.৩৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে
মোঃ রফিকুল ইসলাম , স্টাফ রিপোর্টার ||
বাংলাদেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তির অন্যতম প্রধান উৎস রেমিট্যান্স প্রবাহে নতুন গতি সঞ্চারিত হয়েছে। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে প্রতিনিয়ত শক্তিশালী করে চলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে গত ১৫ জুন পর্যন্ত প্রবাসীরা দেশে মোট ৩৪ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এই পরিসংখ্যানটি দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি চিত্র তুলে ধরেছে।তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই রেমিট্যান্স প্রবাহ ১৮ দশমিক ৬১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ২৮ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার। এই বিশাল অংকের বৃদ্ধি প্রবাসীদের দেশপ্রেম এবং বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর প্রতি তাদের ক্রমবর্ধমান আস্থারই বহিঃপ্রকাশ। প্রবাসীদের এই ধারাবাহিক অবদান দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় মূল ভূমিকা পালন করছে।কেবল দীর্ঘমেয়াদী হিসাবই নয়, স্বল্পমেয়াদী প্রবাহের চিত্রটিও বেশ আশাব্যঞ্জক। জুন মাসের শুরু থেকে মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৬২৩ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এমনকি গত ১৬ জুন একদিনেই বৈধ পথে ৮২ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন ডলার দেশে এসেছে, যা প্রবাসী কর্মীদের দেশের প্রতি অকৃত্রিম দায়বদ্ধতারই প্রতিফলন। দেশের অর্থনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে রেমিট্যান্সের এই উর্ধ্বগতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্ববাজারের নানা অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও প্রবাসীদের পাঠানো এই বৈদেশিক মুদ্রা দেশের রিজার্ভকে মজবুত করছে, যা আমদানিসহ জরুরি আর্থিক চাহিদা মেটাতে বড় ধরনের সহায়তা দিচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, প্রবাসীদের এই উদ্দীপনা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছর শেষে রেমিট্যান্স প্রবাহের এক নতুন রেকর্ড গড়া সম্ভব হবে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল