প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬
জাবিতে জুলাই আন্দোলন ঘিরে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় মদদ ও উসকানি দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত ১৯ শিক্ষক ও দুই কর্মকর্তার বিষয়ে কঠোর ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম—সিন্ডিকেট। দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা ব্যাপী এক ম্যারাথন বৈঠকের পর মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান নতুন প্রশাসনিক ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের অবহিত করেন। জুলাই বিপ্লবের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ও মদদদাতা হিসেবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো বিস্তারিত পর্যালোচনা করে সিন্ডিকেট এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছে।সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, হামলায় সম্পৃক্ততার দায়ে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী ইকবালকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মহিবুর রৌফ শৈবালকে সহকারী অধ্যাপক পদ থেকে প্রভাষক পদে পদাবনতি দেওয়া হয়েছে। একই বিভাগের অধ্যাপক ইস্রাফিল আহমেদের বেতন বর্তমান পদের প্রারম্ভিক স্কেলে নামিয়ে আনা হয়েছে। বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল হোসেন তালুকদারের দুই বছরের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বাতিলসহ তার বেতনস্তর নিম্নতর করা হয়েছে। অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের প্রভাষক কানন কুমার সেনের দুই বছরের ইনক্রিমেন্ট বাতিল করা হয়েছে। সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক আলমগীর কবিরের বেতন বর্তমান পদের প্রারম্ভিক স্কেলে নামিয়ে আনার পাশাপাশি তাকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য যেকোনো ধরনের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ. এ. মামুনকে সতর্কীকরণ এবং তাকেও পাঁচ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান ও অধ্যাপক বশির আহমেদ এবং পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের অধ্যাপক তাজউদ্দীন শিকদারের বেতন বর্তমান পদের প্রারম্ভিক স্কেলে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদেরও আগামী পাঁচ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া সাবেক সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজের বেতন দ্বিতীয় গ্রেডে নামিয়ে আনা হয়েছে এবং তাকেও পাঁচ বছরের জন্য প্রশাসনিক অযোগ্যতা দেওয়া হয়েছে। ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক হোসনে আরাকে কেবল সতর্কীকরণের মাধ্যমেই ক্ষমা করা হয়েছে।অন্যদিকে, সিন্ডিকেটের তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় আইবিএ-এর সহকারী অধ্যাপক পলাশ সাহা, পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শফি মোহাম্মদ তারেক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জহিরুল ইসলাম খোন্দকার, লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ছায়েদুর রহমান ও সহযোগী অধ্যাপক মনির উদ্দিন শিকদার, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ার খসরু পারভেজ এবং সহকারী রেজিস্ট্রার রাজীব চক্রবর্তীকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে ডেপুটি রেজিস্ট্রার নাহিদুর রহমান খানকে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে পদাবনতি দেওয়া হয়েছে। উপাচার্য আরও জানিয়েছেন, তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মো. নুরুল আলম, সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মনজুরুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক রাশেদ আখতারের ভূমিকা তদন্তে পৃথক তিনটি স্ট্রাকচারাল কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলে সিন্ডিকেট সূত্রে জানা গেছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল