প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬
চীনে বিডার কার্যক্রম শুরু, তিন মাসের পরিকল্পনা ঘোষণা
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে নতুন এক দিগন্ত উন্মোচন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। প্রথমবারের মতো দেশের বাইরে নিজেদের একটি পূর্ণাঙ্গ কার্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। আগামী তিন মাসের মধ্যেই চীনে এই কার্যালয়টি চালু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সম্প্রতি চীনের কুনমিংয়ে আয়োজিত সাউথ এশিয়া এক্সপোতে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, চীনের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বাণিজ্যিক অঞ্চলে নিজস্ব অফিস থাকলে সেখানকার বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ স্থাপন, প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ এবং নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া অনেক বেশি গতিশীল হবে।গত পাঁচ বছরে চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বৈদেশিক বিনিয়োগের উৎস হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই গুরুত্ব অনুধাবন করে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বিশেষ সেবাকাঠামো গড়ে তুলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের শেষ দিকে প্রতিষ্ঠানটির অধীনে একটি ‘চায়না ডেস্ক’ চালু করা হয়েছে, যেখানে নিয়োজিত কর্মকর্তারা কেবল চীনা উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ সংক্রান্ত যাবতীয় সহায়তা প্রদানে কাজ করছেন। বর্তমান সরকারের সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে চীনের মাটিতে এই অফিস স্থাপনের উদ্যোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন উদ্বেগ ও আইনি জটিলতা উৎস পর্যায়েই নিরসন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগকে ঘিরে অবকাঠামো খাতে তেরোটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্পটির বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, এই অর্থনৈতিক অঞ্চলটি পুরোপুরি সচল হলে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগের প্রবাহ কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে বেসরকারি খাতে আসা সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চীন দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। এই সময়ে মূল ভূখণ্ড চীন থেকে চার দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার এবং হংকং থেকে ১৭৩ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এসেছে।চীনে অফিস স্থাপনের এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হলে বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের আস্থার জায়গা খুঁজে পাবেন। বিশেষ করে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও তথ্যগত ঘাটতি দূর করতে এই কার্যালয়টি একটি সেতু হিসেবে কাজ করবে। নতুন এই উদ্যোগে বিনিয়োগকারীরা সরাসরি নিজেদের সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে আলোচনার সুযোগ পাবেন, যা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের শিল্প ও অবকাঠামো খাতে চীনা বিনিয়োগের পরিবেশকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে। সরকারের এই দূরদর্শী সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল