প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে অ্যানথ্রপিকের নতুন দুই এআই মডেল
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
অ্যানথ্রপিকের উদ্ভাবিত সর্বশেষ দুটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেলের ওপর মার্কিন সরকারের নিষেধাজ্ঞা আরোপের নেপথ্যে বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যামাজন। ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যামাজনের সাইবার নিরাপত্তা বিভাগ অ্যানথ্রপিকের নতুন মডেলগুলো নিয়ে নিবিড় গবেষণা চালিয়ে বেশ কিছু নিরাপত্তা ত্রুটি খুঁজে পায়। এই তথ্য পাওয়ার পরপরই অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অ্যান্ডি জ্যাসি সরাসরি হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এর অল্প সময়ের মধ্যেই মার্কিন কর্তৃপক্ষ অ্যানথ্রপিকের আলোচিত ‘ফেবল ফাইভ’ এবং ‘মিথস ফাইভ’ মডেল দুটির প্রবেশাধিকার সীমিত বা বন্ধ করে দেয়।অ্যামাজনের গবেষণাপত্রে দাবি করা হয়েছে, এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলগুলোকে কিছু সুনির্দিষ্ট এবং ধারাবাহিক নির্দেশনা বা প্রম্পট প্রদানের মাধ্যমে এমন সব সংবেদনশীল তথ্য বের করা সম্ভব, যা পরবর্তীতে বড় ধরনের সাইবার হামলার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও এই বিষয়ে অ্যামাজনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে অ্যান্ডি জ্যাসির হস্তক্ষেপে মার্কিন সরকারের নেওয়া এই দ্রুত পদক্ষেপটি প্রযুক্তি অঙ্গনে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।এই নিষেধাজ্ঞার ফলে অ্যানথ্রপিকের অভ্যন্তরীণ গবেষণায় নতুন জটিলতা দেখা দিয়েছে। কোম্পানিটিতে কর্মরত অনেক গবেষক বিদেশি নাগরিক হওয়ায়, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা আইনের গ্যাঁড়াকলে পড়ে তারা এখন নিজেরাই নিজেদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।মার্কিন সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিপরীতে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে অ্যানথ্রপিক। তারা সরকারি এই অভিযোগকে ‘জেইলব্রেক’ বা নিরাপত্তার বড় কোনো লঙ্ঘন হিসেবে মেনে নিতে নারাজ। প্রতিষ্ঠানের দাবি, একই ধরনের দুর্বলতা বা সীমাবদ্ধতা বাজারে থাকা অন্যান্য জনপ্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলেও বিদ্যমান, এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই-এর ‘জিপিটি ৫.৫’ (GPT 5.5) এর ক্ষেত্রেও এমনটা দেখা যেতে পারে।অ্যানথ্রপিকের এই অবস্থানের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন বেশ কয়েকজন স্বাধীন নিরাপত্তা গবেষকও। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ‘লুটা সিকিউরিটি’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও কেটি মুসোরিস এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেছেন যে, অ্যামাজনের গবেষণাপত্রটি পর্যালোচনার পর তার কাছে এটিকে কোনোভাবেই জেইলব্রেক বা বড় নিরাপত্তা ত্রুটি বলে মনে হয়নি।বিশ্লেষকদের মতে, অ্যানথ্রপিকের ওপর মার্কিন সরকারের এই কঠোর অবস্থানের পেছনে কেবল তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা ঝুঁকিই একমাত্র কারণ নয়, বরং এর পেছনে রাজনৈতিক মতবিরোধের একটি দীর্ঘ ইতিহাসও জড়িয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা কেট কোরেন ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউসের সঙ্গে অ্যানথ্রপিকের সম্পর্ক আগে থেকেই কিছুটা শীতল ছিল।নাগরিকদের ওপর ব্যাপকভাবে নজরদারি চালানো কিংবা প্রাণঘাতী স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র পরিচালনায় নিজেদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহারের সরকারি প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার পর থেকেই মূলত দুই পক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন যখন ফেডারেল সংস্থাগুলোকে অ্যানথ্রপিকের প্রযুক্তি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, তখন কোম্পানিটিকে সরবরাহ শৃঙ্খলের (সাপ্লাই চেইন) জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে কিছুটা সমঝোতা করে মিথস মডেলের প্রবেশাধিকার নিয়ে কাজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক এই নতুন ঘটনায় আবারও দুই পক্ষের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটল।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল