প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
ইরানের ‘যোদ্ধারা’ হাসবে, নাকি ঘুরে দাঁড়াবে নিউজিল্যান্ড?
স্পোর্টস ডেস্ক ||
আগামীকাল সোমবার পুরো বিশ্বের নজর থাকবে ইরানের ফুটবল দলের দিকে। বাংলাদেশ সময় সকাল সাতটায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করতে যাচ্ছে দলটি। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসের সোফাই স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই ম্যাচটিকে ঘিরে মাঠের চেয়ে মাঠের বাইরের উত্তাপই বেশি। ইতিহাসের পাতায় এটি এক অভূতপূর্ব ঘটনা, কারণ যুদ্ধ চলমান অবস্থায় কোনো দেশ তাদের শত্রু দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলছে। কিছুদিন বিরতির পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরুর ফলে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। সমস্ত প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে পারাই তাদের জন্য বড় এক সাফল্য।টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের প্রক্রিয়াটি ইরানের জন্য ছিল অত্যন্ত জটিল। তুরস্কে ক্যাম্প করার পর বর্তমানে তারা মেক্সিকোতে অবস্থান করছে এবং সেখান থেকেই যাতায়াত করে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে খেলবে। কঠোর শর্ত সাপেক্ষে ইরানের খেলোয়াড়রা ভিসা পেলেও দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতিসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ভিসা পাননি। এর চেয়েও উদ্বেগের বিষয় হলো, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরান দলকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন ম্যাচ শেষ হওয়ার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে তারা যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করে। এছাড়া ইরান সমর্থকরা যাতে গ্যালারিতে বসে দলকে উৎসাহ দিতে না পারেন, সেজন্য তাদের টিকিট বাতিলের অভিযোগও উঠেছে। নানা ধরনের কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতার মধ্যেও ইরানের খেলোয়াড়রা মাঠে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন।এই ম্যাচে ইরানের খেলোয়াড়রা ১৬৮ সংখ্যাটি লেখা বিশেষ জার্সি পরে মাঠে নামবেন। মূলত যুদ্ধে এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দেশটির মিনাব স্কুলে অন্তত ১৬৮ জন নিহত হওয়ার ঘটনার স্মরণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই মর্মান্তিক হামলায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের বেশিরভাগই ছিল শিশু, আর ইরান এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করে আসছে। এই নির্মম ঘটনার প্রতিবাদ এবং শোকের স্মারক হিসেবেই তাদের এই বিশেষ উদ্যোগ। নানামুখী চাপের মুখে দাঁড়িয়েও ইরান ফুটবল দল তাদের শেষ তিন ম্যাচে কোস্টারিকাকে পাঁচ শূন্য, মালিকে দুই শূন্য এবং গাম্বিয়াকে তিন এক গোলে হারিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসী ফর্মে রয়েছে। তারা সপ্তমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিলেও এখন পর্যন্ত গ্রুপ পর্বের বাধা অতিক্রম করতে পারেনি। এবার নতুন ইতিহাস গড়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে ইরান।অন্যদিকে, টানা তিন আসর পর বিশ্বকাপে ফিরেছে নিউজিল্যান্ড। দীর্ঘ বিরতির পর এই প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখতে তারাও জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। সাম্প্রতিক সময়ে আইভরি কোস্ট ও চিলির বিপক্ষে জয় তাদের মনোবল বাড়িয়ে দিয়েছে অনেকটাই। একদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের খেলোয়াড়দের জেদ ও আত্মত্যাগ, অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের রঙিন প্রত্যাবর্তনের আকাঙ্ক্ষা—সব মিলিয়ে কালকের ম্যাচটি ফুটবল বিশ্বের জন্য এক রোমাঞ্চকর লড়াই হতে যাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, মাঠের লড়াইয়ে শেষ হাসি কার হয়।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল