প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
ছয় নবজাতকের মৃত্যুর পর উদ্বেগ-অনিশ্চয়তায় আদ-দ্বীন হাসপাতালের রোগীরা
সুমাইয়া জাবির , ন্যাশনাল ডেস্ক এডিটর ||
রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের তিন দিন পার হলেও এখনো সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৫২ জন রোগী। গত ২৭ মে হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের নির্দেশনায় অনেক রোগী হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেছেন, তবে এখনো যারা রয়ে গেছেন তাদের স্বজনরা এক গভীর অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, হাসপাতালের পরিবেশ এখন অনেকটাই থমথমে। এক সময়ের ব্যস্ত এই প্রতিষ্ঠানটি এখন অনেকটা জনশূন্য এবং নীরবতায় ঢাকা। নতুন করে কোনো রোগী ভর্তি নেওয়া হচ্ছে না এবং জরুরি বিভাগের কার্যক্রমও পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের একটি বড় অংশই অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় আছেন। শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ৪৮ জন, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ও হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিটে সাত জন এবং হৃদরোগীদের বিশেষায়িত ইউনিটে চার জনসহ মোট ১৫২ জন রোগী এখনো চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। তাদের স্বজনদের ভাষ্যমতে, রোগীদের শারীরিক অবস্থা এতই নাজুক যে, এই মুহূর্তে তাদের অন্য কোনো হাসপাতালে স্থানান্তর করাটা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে বাধ্য হয়েই তারা চরম অনিশ্চয়তা মাথায় নিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন।হাসপাতালের ফটকে দাঁড়িয়ে অনেককে ক্ষোভ ও দুশ্চিন্তা প্রকাশ করতে দেখা গেছে। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে কম খরচে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসা এই অলাভজনক প্রতিষ্ঠানটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন। অনেক সেবাপ্রার্থী জানিয়েছেন, নবজাতক মৃত্যুর ঘটনার জন্য যারা দায়ী, তাদের অবশ্যই কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে, কিন্তু পুরো হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়াটা সাধারণ রোগীদের জন্য কোনো সমাধান নয়। হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা না থাকায় রোগী, স্বজন ও কর্মচারীরা এক ধরনের বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছেন। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ ও ছাড়পত্র নিয়ে বেশ কিছু রোগী হাসপাতাল ছেড়ে যাচ্ছেন এবং নিয়মিত ফলোআপের জন্য আসা রোগীদেরও ফিরে যেতে দেখা গেছে।উল্লেখ্য যে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও অবহেলার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ওয়ার্ডে অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি, দীর্ঘক্ষণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বন্ধ থাকা এবং বিকল্প বাতাস চলাচলের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে গিয়ে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। কর্তৃপক্ষের দেওয়া ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে এবং রোগীদের দ্রুত সরকারি ছয়টি হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়। তবুও মুমূর্ষু রোগীদের জীবনের ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে স্বজনরা এখনো এই অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যেই হাসপাতালের বারান্দায় সময় পার করছেন।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল