প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬
বিশ্বকাপ ফুটবলের উদ্বোধনী মঞ্চে বাংলাদেশের সঞ্জয় ইতিহাস গড়লেন টরন্টোয়
স্পোর্টস ডেস্ক ||
বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া আসর ফুটবল বিশ্বকাপের জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ সংগীতশিল্পী সঞ্জয়। শনিবার কানাডার টরন্টো স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বিশ্বখ্যাত তারকাদের সাথে একই মঞ্চে পারফর্ম করে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন তিনি। প্রথম কোনো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিল্পী হিসেবে ফুটবল বিশ্বকাপের অফিশিয়াল উদ্বোধনী মঞ্চে পারফর্ম করার অনন্য এক মাইলফলক স্পর্শ করলেন এই তরুণ। এই জমকালো আয়োজনে তাঁর সহশিল্পী হিসেবে মঞ্চ কাঁপিয়েছেন বলিউড সেনসেশন নোরা ফাতেহি এবং ফরাসি হিপ-হপ তারকা ভেভেড্রিম।যৌথভাবে তিন দেশে আয়োজিত এবারের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী পর্বটি প্রতিটি দেশেই ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে উদযাপন করা হয়েছে। তবে কানাডার টরন্টোর অনুষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে থাকা কোটি বাংলাদেশির জন্য ছিল পরম গর্বের। অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল ফিফার অফিসিয়াল থিম সং ‘সির সির’। গত ৮ জুন ফিফার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশের পর থেকেই গানটি বিশ্বজুড়ে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করে। উদ্বোধনী মঞ্চে দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই গানটি পরিবেশনের সময় সঞ্জয়, নোরা ফাতেহি ও ভেভেড্রিমের রসায়ন ও পারফরম্যান্স গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো দর্শককে মুগ্ধ করে। উল্লেখ্য, প্রকাশের মাত্র চার দিনের মধ্যেই গানটির ভিউ ৩ কোটি ৮৩ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।এদিন টরন্টো স্টেডিয়ামে আদিবাসী ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে সংগীতশিল্পী উইলিয়াম প্রিন্সের সুরের জাদুতে অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল। তবে পুরো আয়োজনের সবচেয়ে আবেগী ও গর্বের মুহূর্তটি আসে যখন সঞ্জয় মঞ্চে প্রবেশ করেন। পারফরম্যান্সের পাশাপাশি তাঁর পোশাকটি সবার নজর কেড়েছে। বিশেষ কায়দায় নকশা করা একটি জ্যাকেট পরে তিনি পারফর্ম করেন, যার ডান হাতের স্লিভে সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল বাংলাদেশের জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগার, জাতীয় ফুল শাপলা এবং সবুজের মাঝে লাল বৃত্তের প্রিয় জাতীয় পতাকা। পারফরম্যান্সের পুরোটা সময় সঞ্জয় বারবার নিজের স্লিভের দিকে আঙুল দেখিয়ে বিশ্ববাসীকে নিজের শিকড়ের কথা জানান দিচ্ছিলেন। তাঁর এই অভিনব দেশপ্রেমের মুহূর্তটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে সময় নেয়নি, যা বিশ্বজুড়ে থাকা বাংলাদেশিদের প্রশংসায় ভাসাচ্ছে।সঞ্জয়ের জন্ম চায়ের রাজধানী খ্যাত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে। শৈশবের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় বন্দরনগরী চট্টগ্রামে কাটালেও পরবর্তীতে পরিবারের সাথে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাস করলেও তাঁর সংগীতের ভাবনায় সব সময় মিশে থাকে বাংলার সুর। ইলেকট্রনিক সাউন্ডের সাথে দেশীয় সংগীতের উপাদানের এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক সংগীত অঙ্গনে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন। দেশের প্রতি তাঁর গভীর টান কেবল এই আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানেই নয়, বরং এর আগেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রমাণিত হয়েছে। গত বছর অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) থিম সং তৈরির নেপথ্যেও ছিল তাঁর দারুণ ভূমিকা। এ ছাড়া বলিউডের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী শ্রেয়া ঘোষালের সাথেও তাঁর কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।দেশের শীর্ষস্থানীয় সংগীতশিল্পীদের সাথেও সঞ্জয় নিয়মিত কাজ করে আসছেন। হাবিব ওয়াহিদ, তাহসান খান ও জেফার রহমানের মতো জনপ্রিয় তারকাদের সাথে তাঁর যৌথ প্রযোজনার গানগুলো শ্রোতামহলে বেশ সমাদৃত হয়েছে। তাঁর সংগীত পরিচালনায় হাবিব, সঞ্জয় ও মুজার গাওয়া ‘একলা দুনিয়া’ গানটি ইউটিউবে লাখ লাখ বার দেখা হয়েছে। একইভাবে তাহসান ও সঞ্জয়ের কণ্ঠে ‘ভুলে যাব’ এবং জেফারের সাথে তাঁর ‘আড়ালে হারালে’ গানটিও দারুণ সাড়া ফেলেছে। বিশ্বমঞ্চে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করলেও দেশের মাটি ও মানুষের প্রতি সঞ্জয়ের এই ভালোবাসা ও নাড়ির টান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বাংলাদেশি শিল্পীদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পা রাখতে বড় ধরনের অনুপ্রেরণা জোগাবে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল