প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬
মরক্কো ম্যাচ দিয়ে ব্রাজিলের হেক্সা মিশন শুরু হচ্ছে রবিবার
স্পোর্টস ডেস্ক ||
ক্লাব ফুটবলের সবুজ গালিচায় রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং বার্সেলোনার জার্সি গায়ে রাফিনিয়া গত মৌসুমে যে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন, তা ছিল বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা বিজ্ঞাপন। তবে জাতীয় দলের হলুদ জার্সি গায়ে উঠলেই যেন এই দুই তারকার চিরচেনা ছন্দ হারিয়ে যায়—এমন একটি আক্ষেপ অনেকদিন ধরেই ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের তাড়া করে ফিরছে। সর্বশেষ কোপা আমেরিকা কিংবা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে ব্যর্থ হওয়া এই দুই ফরোয়ার্ডের সামনে এবার বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার নতুন অগ্নিপরীক্ষা।আগামী রবিবার (১৪ জুন ২০২৬) বাংলাদেশ সময় ভোর চারটায় মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের হেক্সা (ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়) মিশন শুরু করতে যাচ্ছে সেলেসাওরা। মরক্কোর রক্ষণভাগ যথেষ্ট সুসংগঠিত এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে নিজেদের রক্ষণশক্তির পরিচয় দিয়ে তারা বিশ্বমঞ্চে চমক দেখিয়েছিল। ফলে আফ্রিকান এই দলটির রক্ষণব্যূহ ভাঙতে হলে ব্রাজিলের আক্রমণভাগকে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে। বিশেষ করে পোস্টার বয় নেইমার চোটের কারণে অনিশ্চিত থাকায় পুরো আক্রমণভাগের মূল ভার থাকবে ভিনিসিয়ুস ও রাফিনিয়ার কাঁধেই। নেইমারের অনুপস্থিতি পূরণ করতে তাদের সঙ্গে মাতেয়াস কুনিয়া, ইগোর থিয়াগো এবং এনদ্রিককে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।দলের প্রধান তারকা নেইমারের অনুপস্থিতিতে ভিনিসিয়ুসের ওপর চাপের মাত্রাটা এখন অনেক বেশি। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে গত মৌসুমে ২২টি গোল এবং এক ডজনের বেশি অ্যাসিস্ট করা ভিনিসিয়ুস জাতীয় দলের হয়ে ৪৯ ম্যাচে করেছেন মাত্র ৯টি গোল। এই পরিসংখ্যানের কারণে ঘরের মাঠেও তাকে নিয়মিত সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে। একইভাবে রাফিনিয়া বার্সেলোনার হয়ে ডান প্রান্ত থেকে ভেতরের দিকে ঢুকে বাঁ পায়ের জাদুকরী শট কিংবা সেট-পিসে অসাধারণ দক্ষতা দেখালেও, ব্রাজিলের জার্সিতে সেই ধার যেন উধাও। তবে এবার নিজেদের ভুলগুলো শুধরে ক্লাব ফুটবলের ফর্ম জাতীয় দলেও তুলে আনার বড় চ্যালেঞ্জ এই দুই উইঙ্গারের সামনে।ব্রাজিলের বর্তমান আক্রমণভাগে মাতেয়াস কুনিয়া ‘নাম্বার নাইন’ হিসেবে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে পারেন। ইউরোপীয় ফুটবলে নিজেকে একজন গতিশীল স্ট্রাইকার হিসেবে প্রমাণ করা কুনিয়া মাঠজুড়ে যেভাবে প্রেসিং করেন এবং সতীর্থদের জন্য স্পেস তৈরি করে দেন, তা ব্রাজিলের জন্য বড় ভরসার জায়গা।এছাড়া বিকল্প হিসেবে বেঞ্চে থাকা ইগোর থিয়াগো ও এনদ্রিকের মতো তরুণ তুর্কিরা যেকোনো মুহূর্তেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার সিটির গোলমেশিন আর্লিং হালান্ডের সঙ্গে সমান তালে লড়াই করা থিয়াগোর গোল করার ক্ষুধা কিংবা রিয়াল মাদ্রিদে খেলা এনদ্রিকের গতি ও আত্মবিশ্বাস কোচ কার্লো আনচেলোত্তির রণকৌশলে নতুন প্রাণ সঞ্চার করতে পারে।মরক্কোর সুসংগঠিত রক্ষণপ্রাচীর ভাঙতে হলে ভিনি, রাফিনিয়া ও কুনিয়াদের আক্রমণাত্মক কৌশলে আরও নিখুঁত ও গতিশীল হতে হবে। এটি কেবল একটি ম্যাচ জয়ের লড়াই নয়, বরং সেলেসাওদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে বিশ্বজুড়ে কোটি সমর্থকের আস্থার প্রতিদান দেওয়ার মিশন। ক্লাব ফুটবলের সেই চেনা ছন্দ আর জাতীয় দলের মর্যাদাকে এক সুতোয় বাঁধতে পারলে, এই ব্রাজিলিয়ানরাই হয়তো ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের অধরা স্বপ্ন পূরণে মূল পথপ্রদর্শক হয়ে উঠবেন। এখন দেখার বিষয়, মাঠের পারফরম্যান্সে তারা সমর্থকদের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারেন।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল