প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬
ট্রাম্পের বার্তায় চাপে নেতানিয়াহু
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত নিরসনে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা তুলে ধরে সম্ভাব্য একটি সমঝোতা চুক্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন। ওয়াশিংটনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।গত সপ্তাহে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনায় ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানান, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ইতিবাচক পর্যায়ে রয়েছে এবং খুব শিগগিরই একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।মার্কিন প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প সম্ভাব্য এই চুক্তিকে একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন। তার মতে, দীর্ঘদিনের অস্থিরতা ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটানোর জন্য বর্তমান সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।আলোচনার বিষয় সম্পর্কে অবগত ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট হওয়ার পর নেতানিয়াহু উপলব্ধি করেছেন যে, তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করার সুযোগ এখন আগের তুলনায় অনেক সীমিত।এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের বৈরিতার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। দুই দেশ একটি সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তির শেষ পর্যায়ের আলোচনায় রয়েছে বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছে।এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের শিগগিরই জেনেভা সফরের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। সেখানে ইরানের সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে নির্দিষ্ট শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এসব শর্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতির ভিত্তিতে দেশটির ওপর আরোপিত বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে শিথিল করা হতে পারে।সূত্রগুলো বলছে, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরও কিছু কারিগরি ও অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে পরবর্তী পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। এ লক্ষ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আরও বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। একই সঙ্গে চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের সরকারও ভূমিকা রাখছে বলে জানা গেছে।বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই কূটনৈতিক উদ্যোগ সফল হলে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কেই নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক দশক ধরে রাজনৈতিক ও কৌশলগত বিরোধ বিদ্যমান। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বারবার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন একটি সমঝোতার পথ তৈরি করেছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল