প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬
পাঁচ জেলায় পরিবহন ধর্মঘটের ঘোষণা
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
তিন দফা দাবি আদায়ে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় আগামী ১৪ জুন থেকে ধর্মঘট শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচি কার্যকর হলে বাগেরহাট, খুলনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরিশালের সড়ক যোগাযোগে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে।পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা হলেও কার্যকর কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। বারবার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে পরিস্থিতির পরিবর্তন না হওয়ায় তারা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন।বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফকির শহীদুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনের উদাসীনতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণেই ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনের কর্মসূচি বহাল থাকবে বলেও জানান তিনি।মালিক সমিতির তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে নীতিমালা উপেক্ষা করে অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজভিত্তিক বাস চলাচল বন্ধ করা। পাশাপাশি জেলা বাস টার্মিনালের বাইরে গড়ে ওঠা অবৈধ কাউন্টার উচ্ছেদ এবং টার্মিনালে নির্ধারিত একটি কাউন্টারের মাধ্যমে পরিচালনা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।এ ছাড়া দূরপাল্লার বাসগুলো যাতে নিয়ম ভেঙে মাঝপথে যাত্রী পরিবহন করতে না পারে, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক মহাসড়কে মাহেন্দ্র, নছিমন, করিমন ও অটোরিকশাসহ অবৈধ যানবাহনের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধের দাবিও আন্দোলনের অন্যতম প্রধান বিষয়।ধর্মঘটের ঘোষণায় সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং ব্যবসায়ীরা সম্ভাব্য ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন।এদিকে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন জানিয়েছেন, পরিবহন মালিকদের দাবিগুলো সম্পর্কে প্রশাসন অবগত রয়েছে। জনদুর্ভোগ কমাতে এবং ধর্মঘট এড়াতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সমঝোতা না হওয়ায় ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে।দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মহাসড়কে অবৈধ ও অননুমোদিত যানবাহনের চলাচল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর আপত্তি রয়েছে। তাদের দাবি, এসব যানবাহনের কারণে সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে এবং বৈধ পরিবহন খাত আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা ও যাত্রী পরিবহনে নীতিমালা বাস্তবায়নের বিষয়েও তারা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল