প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬
সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক যোগদান ইস্যুতে উত্তাল ইসরাইল
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
ইসরায়েলের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা নীতিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র অসন্তোষ ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সামরিক বাহিনীতে যোগদানে অস্বীকৃতি জানানো ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও আটকের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাতে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। বিক্ষোভকারীরা মধ্য ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক এবং রেলপথ অবরোধ করে তাদের প্রতিবাদ জানান, যার ফলে স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এই বিক্ষোভ চলাকালীন সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত দুজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।এই ব্যাপক বিক্ষোভের আয়োজন করেছিল জেরুজালেম ফ্যাকশন নামক একটি সংগঠন। গত বুধবার সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে অনিচ্ছুক ১৯ জন ব্যক্তিকে পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর হেফাজতে হস্তান্তর করার প্রতিক্রিয়ায় এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। এই ব্যক্তিরা গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। বুধবার রাতে রাজধানী জেরুজালেম এবং তেল আবিবের আটক কেন্দ্রগুলোর সামনেও একই ধরনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, যেখানে বিক্ষোভকারীরা তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সরব ছিলেন।বৃহস্পতিবার রাতের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের বড় একটি অংশ জেরুজালেম, বেইত শেমেশ এবং হারেদি সম্প্রদায়ের মানুষ অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছিলেন। পুলিশের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কায় আগেই সাধারণ মানুষকে কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছিল। তবে সতর্কতা সত্ত্বেও সন্ধ্যার পর যখন একদল বিক্ষোভকারী রেললাইনে নেমে আসেন, তখন তেল আবিবের সঙ্গে ট্রেন যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেরুজালেম থেকে তেল আবিবগামী ট্রেনের শত শত যাত্রীকে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে নামিয়ে দেওয়া হয়, যা যাত্রীসাধারণের মাঝে চরম ভোগান্তি তৈরি করে।রাত বাড়ার সাথে সাথে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীতে পুলিশ জানিয়েছে, মহাসড়কগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং জেরুজালেম ফ্যাকশনের নেতৃবৃন্দ বিক্ষোভকারীদের শান্ত হয়ে ছত্রভঙ্গ হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বাধ্যতামূলক সামরিক যোগদানের বিষয়টি নিয়ে দেশটিতে যে বিভাজন তৈরি হয়েছে, তা ইসরায়েলি সমাজের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল