প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬
বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ছে ৪৩ হাজার কোটি টাকা
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এক বিশাল ও সম্ভাব্য বাজেট পেশ করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ বৃহস্পতিবার, ১১ জুন বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে এই বাজেট আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করবেন তিনি। এবারের বাজেটের একটি বড় অংশ জুড়ে থাকছে নানা চমক, যার মধ্যে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে দেখা দিয়েছে দেশের শিক্ষা খাত। বিগত অর্থবছরের তুলনায় এই খাতে এবার বরাদ্দ একলাফে প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকা বাড়ানোর একটি বড় আভাস পাওয়া গেছে, যা দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের নতুন বাজেটে সরকার শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এর অংশ হিসেবে এই খাতে মোট ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করতে পারেন অর্থমন্ত্রী, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের বা জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ। এর আগের অর্থাৎ বিদায়ি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা, যা ছিল জিডিপির ১.৩৯ শতাংশ। নতুন বাজেটে সরকার মূলত বিভিন্ন ধরনের উচ্চতর গবেষণা ও নতুন নতুন উদ্ভাবনমূলক কাজে কার্যকর পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।নতুন শিক্ষাক্রমে প্রথাগত মুখস্থ বিদ্যার বাইরে গিয়ে আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষাদান বা আনন্দময় শিক্ষাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনাকে বোঝা মনে না করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করতে পারে। এর পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং ক্রীড়া ও সংস্কৃতির সার্বিক বিকাশকে সমানভাবে প্রাধান্য দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা ও মেধার সঠিক বিকাশের লক্ষ্যে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, বিজ্ঞান মেলা এবং নিয়মিত সাহিত্যচর্চার মতো গুরুত্বপূর্ণ সহশিক্ষা কার্যক্রমে বিশেষ জোর দেবে সরকার।তবে এবারের শিক্ষাব্যবস্থায় সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে। এখন থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রচলিত বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক পাঠ্যক্রমে তৃতীয় আরেকটি ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এই নতুন নিয়মের আওতায় শিক্ষার্থীরা জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফ্রেঞ্চ ও জার্মান ভাষার মতো আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভাষাগুলো সহজে শেখার সুযোগ পাবে, যা ভবিষ্যতে তাদের বিশ্বমঞ্চে এগিয়ে রাখবে।একই সাথে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের মূলধারার কর্মসংস্থানে ফিরিয়ে আনার জন্য একটি বড় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর অধীনে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান, গণিত, ইংরেজি ও তথ্য-প্রযুক্তি শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং বিভিন্ন কর্মমুখী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হবে। সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় উদ্বুদ্ধ করতে স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও স্কুলব্যাগ সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশেষায়িত সহায়ক প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী প্রদান করা হবে। ছাত্র-ছাত্রীদের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে এবং তাদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে দুপুরে স্কুলের খাবার বা মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালু করা হবে এবং তা পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। এছাড়া ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্যানিটেশন ও হাইজিনকে প্রাধান্য দিয়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।সামগ্রিক বাজেটের দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই সম্ভাব্য বাজেটের বিশাল আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এই বিশাল ব্যয়ের বিপরীতে সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের হিসাব মেলালে আগামী বাজেটে মোট ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার একটি বড় ঘাটতি থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল