প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যে আবারও বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের জোগান কমে যাওয়ার আশঙ্কায় এই দাম বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা। সম্প্রতি মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর পর বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় এক শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। এই নতুন উত্তেজনার ফলে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে এমন আশঙ্কায় বড় বড় আমদানিকারক দেশগুলোর মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে প্রতিদিনের বাজারদরে।জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক লেনদেন বাজার খোলার শুরুতেই তেলের দামে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম নির্ধারণের অন্যতম প্রধান মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য প্রায় শূন্য দশমিক নয় শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেলের দাম দাঁড়িয়েছে বিরানব্বই দশমিক ঊনত্রিশ ডলারে। এর পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম সূচক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দামও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। মার্কিন এই অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় শূন্য দশমিক আট শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি আটাশি দশমিক সাতানব্বই ডলারে এসে ঠেকেছে। হঠাৎ করে তেলের দামের এই লাফিয়ে বাড়ার ঘটনা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার বিশেষ প্রতিবেদনে এই বাজার পরিস্থিতির গভীর বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে যে, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম গত সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে গিয়েছিল, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক ছিল। তবে সেই সর্বনিম্ন অবস্থান থেকে তেলের বাজার এক ধাক্কায় আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। এই আকস্মিক পরিবর্তনের পেছনে মূলত দুটি প্রধান কারণ কাজ করেছে। প্রথমত, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা, যা মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী অঞ্চলের নিরাপত্তা ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলেছে। দ্বিতীয়ত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ার তথ্য সরকারিভাবে প্রকাশ পাওয়া। দেশের অভ্যন্তরীণ মজুত কমে যাওয়ায় মার্কিন বাজারে তেলের ঘাটতি তৈরি হতে পারে এমন আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের চাহিদা ও দাম দুটিই একযোগে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভূরাজনৈতিক এই অস্থিরতা ও জোগান সংকটের কারণে আগামী দিনগুলোতে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল