প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬
ভারতীয় বংশোদ্ভূত সিইওসহ ১৭ জনের নাগরিকত্ব কেড়ে নিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জনের ক্ষেত্রে তথ্য গোপন, জালিয়াতি এবং বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ জনের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাও। গত সোমবার মার্কিন প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে এ পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়।মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিবাসন জালিয়াতি, শিশু নির্যাতন, মাদক পাচার, অর্থ পাচার ও আর্থিক প্রতারণাসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল হতে পারে।সবচেয়ে আলোচিত অভিযুক্তদের একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নীরাজ শর্মা। নিউ জার্সিভিত্তিক একটি কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, ভুয়া স্বাক্ষর ও জাল নথি ব্যবহার করে তিনি একাধিক কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার আবেদন করেছিলেন। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে তিনি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণের সময়ও তিনি এসব তথ্য গোপন করেছিলেন।মার্কিন অভিবাসন ও জাতীয়তা আইন অনুযায়ী, মিথ্যা তথ্য বা প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত নাগরিকত্ব বাতিল করার ক্ষমতা সরকারের রয়েছে। বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ আইনের প্রয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।অভিযুক্তদের মধ্যে আরও রয়েছেন হাইতি, মেক্সিকো, কলম্বিয়া, ফিলিপাইন, কিউবা ও সাবেক যুগোস্লাভিয়ার বিভিন্ন নাগরিক। তাঁদের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতন, আন্তর্জাতিক মাদক পাচার, অর্থ পাচার ও প্রতারণার মতো অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব বাতিলের ঘটনা অতীতে তুলনামূলকভাবে বিরল ছিল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে প্রায় ৩০০টি এমন মামলা হয়েছিল। আগে সাধারণত যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হতো।তবে বর্তমান প্রশাসনের অধীনে এ নীতির পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। অভিবাসন জালিয়াতি ও বড় ধরনের আর্থিক অপরাধের ক্ষেত্রেও নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নিয়মিতভাবে এ ধরনের মামলা চিহ্নিত ও আদালতে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।তবে অভিযুক্ত ১৭ জনই আদালতে নিজেদের পক্ষে আইনি লড়াই করার সুযোগ পাবেন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁরা মার্কিন নাগরিক হিসেবে প্রাপ্ত অধিকার ও সুবিধা হারাতে পারেন। পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে বহিষ্কার বা নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল