প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুন ২০২৬
ফিলিপাইনের ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ৩৭ বাস্তুচ্যুত হাজারো পরিবার
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
দক্ষিণ ফিলিপাইনে আঘাত হানা স্মরণকালের ভয়াবহ ও শক্তিশালী এক ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা এক লাফে বেড়ে সাঁইত্রিশ জনে দাঁড়িয়েছে। বিধ্বংসী এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে এখন পর্যন্ত আহত হয়েছেন আরও অন্তত দেড় শতাধিক মানুষ, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। ফিলিপাইনের সকসারজেন অঞ্চলেই সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং সেখান থেকেই উদ্ধারকর্মীরা ৩১টি নিথর মরদেহ উদ্ধার করেছেন। উপদ্রুত এলাকাগুলোতে এখনো অনেক মানুষ নিখোঁজ থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তীব্র আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা বা সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে হতাহতের এই সংখ্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। শক্তিশালী এই ভূকম্পনের ফলে পুরো এলাকার ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ধসে পড়েছে, যার কারণে দশ হাজারেরও বেশি বাসিন্দা মুহূর্তের মধ্যে গৃহহীন হয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।ভয়াবহ এই দুর্যোগের সূচনা হয় সোমবার স্থানীয় সময় ভোরের দিকে, যখন রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার এক প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পে সমগ্র দক্ষিণ ফিলিপাইন মারাত্মকভাবে কেঁপে ওঠে। ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অব ভলক্যানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজির প্রাথমিক গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, এই শক্তিশালী ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল বা কেন্দ্র ছিল মিন্দানাও দ্বীপের জেনারেল সান্তোস শহর থেকে মাত্র আট মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং ভূগর্ভ থেকে এর গভীরতা ছিল মাত্র ৬ দশমিক ২ মাইল। অগভীর উৎপত্তিস্থল হওয়ার কারণেই ক্ষয়ক্ষতির তীব্রতা এত বেশি হয়েছে। স্থানীয় ঘড়ির সময় অনুযায়ী সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে যখন সাধারণ মানুষ তাদের দৈনন্দিন কাজ শুরু করছিলেন, ঠিক তখনই এই ভয়াবহ ভূকম্পন আঘাত হানে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থাও তাদের বৈজ্ঞানিক পরিমাপে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ৭ দশমিক ৮ ছিল বলে নিশ্চিত করেছে।ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনির পরপরই উপকূলীয় এলাকাগুলোতে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, কারণ প্যাসিফিক সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এক জরুরি সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। সেখানে বলা হয়েছিল, ভূমিকম্পের প্রভাবে ফিলিপাইনের কিছু উপকূলে সর্বোচ্চ ১০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস বা সামুদ্রিক ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে। একই সাথে পার্শ্ববর্তী দেশ ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতেও অন্তত এক মিটার উচ্চতার ঢেউ ওঠার প্রবল আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে সৌভাগ্যবশত পরবর্তীতে সমুদ্রের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় সুনামি বা জলোচ্ছ্বাসের আর কোনো বড় ধরনের ঝুঁকি নেই বলে আবহাওয়াবিদ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। বর্তমানে উপদ্রুত এলাকাগুলোতে নিখোঁজদের সন্ধানে স্থানীয় প্রশাসন এবং উদ্ধারকারী দলগুলো ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে এবং গৃহহীন মানুষদের জন্য জরুরি ত্রাণ ও অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল