প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুন ২০২৬
বিশ্বজুড়ে বেড়েছে পারমাণবিক অস্ত্র খাতে ব্যয়
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক অস্ত্রের পেছনে ব্যয়ের পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে এক অভাবনীয় উচ্চতায় পৌঁছেছে। পারমাণবিক অস্ত্র সম্পূর্ণ নির্মূলের লক্ষ্যে বিশ্বজুড়ে আন্দোলনরত আন্তর্জাতিক সংস্থা 'ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু অ্যাবলিশ নিউক্লিয়ার উইপনস' তথা আইক্যানের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের মোট নয়টি পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র বিগত ২০২৫ সালে তাদের পরমাণু কর্মসূচির পেছনে সম্মিলিতভাবে ১১৯ বিলিয়ন বা ১১ হাজার ৯০০ কোটি মার্কিন ডলার ঢেলেছে। এই বিপুল পরিমাণ খরচ পূর্ববর্তী বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি, যা বিশ্বজুড়ে নতুন করে এক বিপজ্জনক সামরিক প্রতিযোগিতার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।আন্তর্জাতিক এই গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, পারমাণবিক বোমার মজুদ ও আধুনিকায়নে ব্যস্ত থাকা এই নয়টি দেশ হলো যথাক্রমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া এবং ইসরাইল। আইক্যানের চুলচেরা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই দেশগুলো তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির পেছনে প্রতি সেকেন্ডে গড়ে ৩ হাজার ৭৬৮ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ খরচ করছে। তবে এই বিশাল খরচের তালিকায় সবাইকে ছাড়িয়ে এককভাবে শীর্ষস্থান দখল করে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি গত এক বছরে একাই ৬৯ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে, যা বাকি আটটি পারমাণবিক দেশের মোট সম্মিলিত খরচের চেয়েও অনেক বেশি।বিশ্বের এমন অনিয়ন্ত্রিত সামরিক ব্যয় নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইক্যানের কর্মসূচি পরিচালক সুসি স্নাইডার। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির দিকে আঙুল তুলে তিনি বলেন যে, বর্তমান সময়ে যখন বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হচ্ছে, কোটি কোটি মানুষের জন্য প্রতিদিনের খাদ্য ও জ্বালানি জোগাড় করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে, ঠিক তখনই নিরাপত্তার এক অবাস্তব ও ভ্রান্ত ধারণার পেছনে এই নয়টি দেশের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার অপচয় করাটা সত্যিই অকল্পনীয় এবং অনৈতিক। তিনি আরও সতর্ক করে দেন যে, পারমাণবিক অস্ত্রের যেকোনো ধরনের ব্যবহার মানেই মানবজাতির জন্য এক চরম ও চিরস্থায়ী বিপর্যয় ডেকে আনা। তা ছাড়া তথাকথিত পারমাণবিক প্রতিরোধনীতির যে যুক্তি দেওয়া হয়, তা আসলে আমাদের নিজেদের অস্তিত্বের সুরক্ষাকে পুরোপুরি শত্রুপক্ষের মর্জির ওপর নির্ভরশীল করে তোলে।প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক নিরাপত্তা উদ্বেগ, বিভিন্ন পরাশক্তির মধ্যে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং নিজেদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের তীব্র প্রতিযোগিতার কারণেই পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিতে এই বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ বাড়ছে। তবে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে সোচ্চার বিশেষজ্ঞরা ক্রমাগত হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন যে, শক্তির এই অন্ধ প্রদর্শন এবং মারণাস্ত্রের পেছনে লাগামহীন ব্যয় পুরো পৃথিবীকে এক চরম অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই প্রবণতা বন্ধ না হলে বিশ্ব শান্তি বজায় রাখা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল