প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬
পলাতক সাবেক ডিবি প্রধান হারুনের সম্পদ জব্দে আইনি প্রক্রিয়া শুরু
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক প্রধান হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনের যে অভিযোগ রয়েছে, তার নিবিড় তদন্তে নেমে নিত্যনতুন ও চাঞ্চল্যকর তথ্যের সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। রাষ্ট্রীয় এই দুর্নীতি বিরোধী সংস্থার সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজার এবং রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় সাবেক এই প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তার নামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জমি ও মূল্যবান প্লটের সন্ধান মিলেছে। গোপন সূত্রে এই স্থাবর সম্পত্তির খোঁজ পাওয়ার পর পরই সেগুলো সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য এবং ক্রোক করার জন্য জরুরি আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে সংস্থাটি। দুদকের বিশেষ আবেদনের পরিপ্রক্ষিতে দেশের একটি আদালত ইতিমধ্যেই হারুন অর রশিদের খুঁজে পাওয়া এই সমস্ত অবৈধ সম্পদ অবিলম্বে জব্দের নির্দেশ জারি করেছেন।বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেলের বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে যে, দুর্নীতি দমন কমিশনের সংগৃহীত নথিপত্র অনুযায়ী, সাবেক এই গোয়েন্দা প্রধান সরকারি পদের অপব্যবহার করে রাজধানীর বনানী এবং উত্তরাসহ বিভিন্ন অভিজাত ও ব্যয়বহুল ক্লাবের সদস্যপদ লাভ করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি বেতনের বাইরে বিপুল অঙ্কের কালো টাকা ব্যয় করে তিনি এই সমস্ত নামিদামি ক্লাবের সদস্যপদ গ্রহণ করেন। শুধু তাই নয়, কর্মজীবনে নিজের পদের প্রভাব খাটিয়ে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবেরও সদস্যপদ বাগিয়ে নেওয়ার অকাট্য তথ্য এখন দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তাদের হাতে রয়েছে। বর্তমানে এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে সতেরো কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট মামলার তদন্ত কাজ চলছে। তদন্তের সাথে সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, হারুন অর রশিদ যেন তাঁর নামে থাকা কোনো স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করতে, গোপনে বিক্রি করতে কিংবা অন্য কোনো উপায়ে লুকিয়ে ফেলতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতেই মূলত আদালতের কাছে এই সমস্ত সম্পত্তি ক্রোক এবং ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আবেদন জানানো হয়েছিল, যা আদালত আমলে নিয়ে অনুমোদন করেছেন।সাবেক এই ডিবি প্রধানের মামলার পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনের আরও কয়েকটি বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির অনুসন্ধান প্রক্রিয়া সমানতালে এগিয়ে চলছে। এর মধ্যে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বীমা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সাবেক চেয়ারম্যান মোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে প্রায় চারশত সত্তর কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের একটি গুরুতর অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। এই চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে এনএইচ স্পিনিং মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসেনকে আগামী চোদ্দই জুন সেগুনবাগিচায় অবস্থিত দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সশরীরে হাজির হওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক নির্দেশ জারি করা হয়েছে। এই বিশাল অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় তাঁর কী ভূমিকা ছিল, তা খতিয়ে দেখতে এবং অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার কাছে তাঁর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য রেকর্ড করার উদ্দেশ্যেই মূলত এই তলব করা হয়েছে বলে দুর্নীতি দমন কমিশন নিশ্চিত করেছে।অন্যদিকে, দুদকের দায়ের করা দুর্নীতির মামলার অন্যতম আলোচিত আসামি এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক নূর মোহাম্মদের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের প্রকৃত বাজার মূল্য এবং পরিমাণ নির্ধারণের জন্য একটি বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে সরকারের গণপূর্ত অধিদপ্তর একটি উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে, যারা মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনের মাধ্যমে তাঁর সম্পদের সঠিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করবে। দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, দেশের আলোচিত এই সমস্ত হাই প্রোফাইল দুর্নীতি মামলার তদন্ত ও অনুসন্ধান কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে চলমান রয়েছে এবং আগামী দিনে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল