প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬
গাজায় প্রবেশের সব পথ ফের বন্ধ করল ইসরাইল
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় প্রবেশের সবকটি সীমান্ত পথ ও পারাপার কেন্দ্র আবারো সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছে ইসরাইল কর্তৃপক্ষ। তেল আবিবের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলে ইরানের চালানো আকস্মিক ও শক্তিশালী সামরিক হামলার প্রেক্ষাপটে সার্বিক জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তারা এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বন্ধ করে দেওয়া এই পথগুলোর মধ্যে অত্যন্ত সংবেদনশীল রাফাহ ক্রসিং এবং কেরেম শালোম পারাপার কেন্দ্রও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেগুলোকে দীর্ঘ দিন ধরে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার লাখ লাখ ভাগ্যবঞ্চিত মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক মানবিক সাহায্য, খাদ্য ও জরুরি ওষুধপত্র সরবরাহের প্রধান ও একমাত্র প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচনা করা হতো। এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে নতুন করে তীব্র মানবিক সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।তবে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ ও সমালোচনাকে পাশ কাটিয়ে ইসরাইলি প্রশাসন দাবি করেছে, সীমান্ত পথগুলো সাময়িকভাবে অবরুদ্ধ করার এই সিদ্ধান্তটি মূলত দেশের বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে নেওয়া বেশ কিছু জরুরি ও অপরিহার্য নিরাপত্তা ব্যবস্থারই একটি অংশ মাত্র। তাদের নীতিনির্ধারকদের যুক্তি, এই প্রবেশপথগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কারণে গাজা উপত্যকার অভ্যন্তরীণ মানবিক পরিস্থিতির ওপর নতুন করে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই। ইসরাইলের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে যে, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দাতা সংস্থার সহায়তায় গাজায় যে বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য, শিশুখাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রবেশ করেছে, তা সেখানকার বর্তমান জনসংখ্যার সার্বিক পুষ্টি ও বেঁচে থাকার চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি। ফলে সাময়িকভাবে সরবরাহ বন্ধ থাকলেও ভেতরে বড় ধরনের কোনো খাদ্যসংকট তৈরি হবে না বলে তারা মনে করছে।অবশ্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক সমীকরণ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অজুহাতে গাজা উপত্যকাকে পুরোপুরি অবরুদ্ধ ও সাহায্যবঞ্চিত করার এই কৌশল ইসরাইল এবারই প্রথম প্রয়োগ করছে না। এর আগেও তেহরানের সঙ্গে যখনই তেল আবিবের সামরিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে, তখনই সুরক্ষার অজুহাত তুলে গাজাবাসীর ওপর সম্মিলিত শাস্তি হিসেবে এই অবরোধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেও দুই দেশের মধ্যকার সংঘাতের সময় অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য গাজায় প্রবেশের সবকটি পথ একইভাবে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল ইসরাইলি বাহিনী, যার ফলে অবরুদ্ধ ওই ভূখণ্ডে চরম হাহাকার ও মানবিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছিল। বর্তমানের এই নতুন সিদ্ধান্ত আবারও গাজার সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের জীবনকে এক গভীর অনিশ্চয়তা ও চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মীরা।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল