প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬
বিএসএফের পুশইন ঠেকাতে বিজিবির পাশে গ্রামবাসীর পাহারা
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত জেলা লালমনিরহাটের আদিতমারী, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম সীমান্তে সম্প্রতি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ কর্তৃক আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করে জোরপূর্বক অবৈধ পুশইনের এক নজিরবিহীন চেষ্টা সফলভাবে নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে। বিএসএফের এই অন্যায় ও একতরফা পদক্ষেপের শিকার হওয়া অসহায় নারী, পুরুষ ও নিষ্পাপ শিশুসহ মোট ৩৩ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না দিয়ে সীমান্তে কঠোরভাবে রুখে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবির সজাগ সদস্যরা। সবচেয়ে আশাব্যাঞ্জক বিষয় হলো, বিএসএফের এই অবৈধ ও অনভিপ্রেত অনুপ্রবেশের চেষ্টা ঠেকাতে এবং নিজেদের দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে এখন বিজিবির জওয়ানদের পাশাপাশি লাঠি হাতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাত-দিন সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন স্থানীয় সাহসী গ্রামবাসী। দেশপ্রেমের এমন অনন্য নজির সীমান্তজুড়ে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকার চিরস্থায়ী বাসিন্দা ছকমল হোসেন নিজের ক্ষোভ ও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ভারত থেকে অন্যায় ও অবৈধভাবে আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের যে অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, তা আমরা দেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে কোনোভাবেই মেনে নেব না। নিজের জন্মভূমির প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে সীমান্তবাসী হিসেবে আমরাও সবসময় বিজিবির ভাইদের পাশে থেকে দেশমাতৃকার সীমান্ত সুরক্ষায় নিজেদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে যাব। একই এলাকার আরেক লড়াকু বাসিন্দা গোলাপ মিয়া অত্যন্ত আবেগঘন ও অনমনীয় কণ্ঠে বলেন, ভারত থেকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশের যেকোনো ধরনের ধৃষ্টতা ও অপচেষ্টা আমরা আমাদের জীবন দিয়ে হলেও সফল হতে দেব না। বিএসএফের এই অন্যায্য ও উসকানিমূলক অপতৎপরতা রুখতে এবং আমাদের মাটিকে সুরক্ষিত রাখতে বিজিবির সীমান্ত টহল দলের সঙ্গে আমরাও সাধারণ মানুষরা লাঠি হাতে নিয়ে পালাক্রমে কড়া পাহারা বসিয়েছি, যাতে কেউ রাতের আঁধারেও পার না হতে পারে।লালমনিরহাটের দায়িত্বে থাকা ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের মিডিয়া সেল বা তথ্য শাখা সূত্র থেকে পাওয়া সর্বশেষ সংবাদে জানা গেছে, সীমান্তে জোরপূর্বক পুশইনের উদ্দেশ্যে লাইনে দাঁড় করিয়ে নিয়ে আসা সব বিতর্কিত ব্যক্তিকে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের কঠোর অবস্থানের মুখে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পুনরায় তাদের নিজেদের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে এই তিনটি স্পর্শকাতর সীমান্ত পয়েন্টেই সার্বিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও শান্ত রয়েছে। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও অবৈধ অনুপ্রবেশ পুরোপুরি ঠেকাতে বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্তজুড়ে কঠোর নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং নিয়মিত বিশেষ টহল কার্যক্রম আরও জোরদার ও অব্যাহত রাখা হয়েছে।রংপুর সেক্টর সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক জরুরি ও আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বিষয়ে অত্যন্ত কড়া অবস্থান ব্যক্ত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও বৈধ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্যকে তোয়াক্কা না করে সীমান্তের কাঁটাতারবিহীন অরক্ষিত এলাকা ও বিভিন্ন গেট বা দরজা ব্যবহার করে বাংলাদেশে জোরপূর্বক জোর জবরদস্তিমূলকভাবে লোকজন প্রবেশ করানোর এই অপচেষ্টা সম্পূর্ণ বেআইনি। বিএসএফের এই আচরণ পরিষ্কারভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আইন এবং দুই বন্ধুভাবাপন্ন দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় পারস্পরিক সমঝোতার সম্পূর্ণ পরিপন্থি ও লঙ্ঘন, যা কোনোভাবেই একটি স্বাধীন রাষ্ট্র মুখ বুজে সহ্য করতে পারে না।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল